ক্রাইম ব্লক

বলরামপুরে বাইকে বস্তায় তরুণীর দেহ উদ্ধার পুলিশের, ধৃত প্রেমিক

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রীতিকা মাহাতো (২২)। তাঁর বাড়ি বাঘমুণ্ডি থানার বুড়দা গ্রামে। ধৃত অমিতের বাড়ি হুড়ুমদা গ্রামে। পড়াশোনা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রীতিকা টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
বলরামপুরে বাইকে বস্তায় তরুণীর দেহ উদ্ধার পুলিশের, ধৃত প্রেমিক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , বলরামপুর :

রাতের রাস্তায় মোটরবাইক থামিয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে এক তরুণীর দেহ উদ্ধার করল বলরামপুর থানার পুলিশ।  ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল পুরুলিয়ার বলরামপুরে । শনিবার গভীর রাতে বাঘমুণ্ডি-বলরামপুর রোডে নাকা তল্লাশির সময় একটি মোটরবাইক আটকায় পুলিশ। বাইকের পিছনে বাঁধা পলিথিনের বড় বস্তা থেকে রক্ত বেরোতে দেখে সন্দেহ হয় আধিকারিকদের। পরে বস্তা খুলতেই উদ্ধার হয় এক তরুণীর দেহ। ঘটনায় অমিত কুমার মাহাতো নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রীতিকা মাহাতো (২২)। তাঁর বাড়ি বাঘমুণ্ডি থানার বুড়দা গ্রামে। ধৃত অমিতের বাড়ি হুড়ুমদা গ্রামে। পড়াশোনা এবং চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রীতিকা টামনা থানা এলাকার একটি মেসে থাকতেন।

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ওই মেসেই প্রীতিকাকে খুন করা হয়। শনিবার সেখানে যাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে বচসা হয় বলে জানা গিয়েছে। তার পরেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রীতিকার গলায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরে দেহটি বস্তায় ভরে মোটরবাইকে চাপিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রীতিকা এবং অমিতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। একই কোচিংয়ে তাঁরা পড়াশোনাও করতেন। সম্প্রতি প্রীতিকা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন— এমন সন্দেহ তৈরি হয়েছিল অমিতের মনে। সেই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। সেই সম্পর্কের টানাপড়েনই খুনের কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে দেহ নিয়ে বেশি দূর যেতে পারেননি অমিত। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বাঘমুণ্ডি-বলরামপুর রোডে পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়ে তাঁর বাইক। বস্তা থেকে রক্ত বেরোতে দেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পরেই গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহালও করা হয়েছে। অমিতকে রবিবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হবে। তাঁকে দশ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে তদন্তকারীরা।

জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ বলেন, ‘‘সম্পর্কের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’’