শিক্ষা সংস্কৃতি শহর

সাহিত্যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, পুরুলিয়ার গবেষকের অনন্য গবেষণাগ্রন্থ

সম্প্রতি পুরুলিয়ার এম. এম. হাইস্কুলের বিদ্যাসাগর কক্ষে আয়োজিত 'জীবনের পরম পরশ' কমিটির অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো ড. কার্তিককুমার মণ্ডলের দীর্ঘ গবেষণালব্ধ বই ‘বাংলা সাহিত্যে কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন‌ সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম’।
সাহিত্যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, পুরুলিয়ার গবেষকের অনন্য গবেষণাগ্রন্থ

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

একুশ শতকের সূচনায় রাজ্য রাজনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটায়নি, গভীর প্রভাব ফেলেছিল বাংলা সাহিত্যেও। তেভাগা বা নকশালবাড়ি আন্দোলনের মতোই এই প্রতিরোধ আন্দোলন কীভাবে সাহিত্যের পাতায় স্থায়ী আসন করে নিয়েছে, তা এবার উঠে এল একটি গবেষণাগ্রন্থে।
সম্প্রতি পুরুলিয়ার এম. এম. হাইস্কুলের বিদ্যাসাগর কক্ষে আয়োজিত 'জীবনের পরম পরশ' কমিটির অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো ড. কার্তিককুমার মণ্ডলের দীর্ঘ গবেষণালব্ধ বই ‘বাংলা সাহিত্যে কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন‌ সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম’। ২০১৯ সালের আগস্টে সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. স্বপনকুমার মণ্ডলের অধীনে এই গবেষণাটির মূল কাজটি সম্পন্ন করেছিলেন জয়পুর ব্লকের মনিপুর স্বামী বিবেকানন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ড. কার্তিককুমার মণ্ডল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাত মণ্ডল এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লাল্টু মিত্র।

বইটির উন্মোচন করে প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. স্বপনকুমার মণ্ডল বলেন, “সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন মানুষের অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সাহিত্যকে নিছক ‘মুখপত্র’ থেকে সোচ্চার ‘মুখপাত্রে’ রূপান্তর করেছে। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক থেকে প্রবন্ধ বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখাতেই এই আন্দোলনের ছায়া কীভাবে পড়েছে, তা এই বইটিতে নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল ও স্থায়ী সম্পদ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান গবেষণা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ডিগ্রিসর্বস্বতার ভিড়ে আজ পিএইচডি ডিগ্রিধারী অনেক হলেও প্রকৃত গবেষকের সংখ্যা হাতে গোনা। ছকবাঁধা পথ ছেড়ে বেরিয়ে গবেষণাকে অর্থবহ করতে হলে গবেষকের নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ ও সৎসাহস প্রয়োজন।”

লোক গবেষক ড. সুভাষ রায়, সাহিত্যিক দেবাশিস সরখেল, পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের প্রোক্টর তথা কবি দেবাশিস মণ্ডল, প্রধান শিক্ষক সমর কিশোর মাহাত, প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার সাউ, ড. জলধর কর্মকার, ড. সত্যজিৎ বসাক, ড. প্রবোধ চন্দ্র পাল, অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ মুদি, অধ্যাপক ড. বৈদ্যনাথ বাস্কে, কবি অভ্রদীপ গোস্বামী, কবি পলাশ গোস্বামী, সংগীত শিক্ষক সুজিত ঘোষ সহ বহু বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও গবেষক উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সকলেই আশাপ্রকাশ করেন যে, এই গ্রন্থটি আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যের গবেষক ও পাঠকদের কাছে একটি আকর গ্রন্থ হিসেবে কাজ করবে।