ক্রাইম ব্লক

একা অমিত নয়, নার্সিং ছাত্রীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেকে, দাবি পরিবারের

একা অমিত নয়, বাইশ বছরের নার্সিং ছাত্রীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেকে। মৃতার পরিবারের এমন দাবিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকায়।
একা অমিত নয়, নার্সিং ছাত্রীর নৃশংস  হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেকে, দাবি পরিবারের

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর ও বাঘমুন্ডি:

একা অমিত নয়, বাইশ বছরের নার্সিং ছাত্রীর নৃশংস  হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে রয়েছে আরও অনেকে। মৃতার পরিবারের এমন দাবিকে সামনে রেখে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি এলাকায়। সোমবার মৃতার বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পাশে থাকার আশ্বাস দেন বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো। সঙ্গে ছিলেন জেলা বিজেপি সভাপতি শংকর মাহাতো সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।


বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্য রাকেশ মাহাতো বলেন," এই অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং আমাদের পুরুলিয়া জেলা তথা পুরো রাজ্যের জন্য লজ্জাজনক। আমি সাধারণ গ্রামবাসী হিসেবে নিপীড়িত পরিবারের পাশে আছি এবং পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যেন অপরাধীদের সর্বোচ্চ কঠোর সাজা দেওয়া হয়। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব ও আমাদের বিধায়কের সাথে আমিও পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। দলগতভাবে আমরা প্রশাসনের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি, যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায় এবং সমাজে একটি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির তৈরি হয়।"

 
বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো  বলেন, "  পরিবারটি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে এবং ঘটনার ব্যবহৃত বাইকের ভুয়ো নম্বরসহ মূল চক্রান্তকারীদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ৯ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না"।

জেলা বিজেপির সভাপতি শংকর মাহাতো ‌বলেন, " অভিযুক্তদের চরম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সাথে  যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।"


মৃতার কাকা বলেন, "আমার ভাইঝি ৯২% নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।  নার্সিং পড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হলো।   পুলিশের তদন্তে বাকি আসামিরাও ধরা পড়ুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি হোক,এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। আজ বিধায়কও বাড়ি এসে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।"

গোটা রহস্যটাই দাঁড়িয়ে এখন ঘড়ির কাঁটায়। নিহত ছাত্রী শনিবার দুপুর একটার সময় বার হলে বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত কোথায় ছিল? সে কি সত্যি-ই টিউশন গিয়েছিল? সন্ধ্যা সাতটার আগে অমিত তার প্রেমিকার বস্তাবন্দি মৃতদেহ বাইকে বেঁধে ওই মেস ছাড়ার পর অন্য কোথাও কি গিয়েছিলো? নইলে তার মেস থেকে বলরামপুর যেতে বাইক স্বাভাবিক গতিতে চালালে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। সেই জায়গায় শনিবার মধ্যরাত পার করে ১২ টা ২৫ নাগাদ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। তদন্তে এই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছে বলরামপুর থানার পুলিশ। এদিকে সিল করে দেওয়া হয়েছে অমিতের মেসের রুমটি। ফরেন্সিক দলের আসার কথা ছিল সোমবার। আসেনি দল। পাওয়া যায়নি নিহত ছাত্রীর পোস্টমর্টেম রিপোর্টও।

 

ছবিতে মৃতার পরিবারের পাশে বাঘমুন্ডির বিধায়ক, বিজেপি জেলা সভাপতি সহ বিজেপির প্রতিনিধি দল।