সাধারণ খবর শহর

দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণে মোম মিছিলে জেলাশাসকও

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আয়োজিত এই মোমবাতি মিছিলের মূল উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের প্রকৃত ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই চেতনার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্কুল-কলেজেও দেখানো হবে।
দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণে মোম মিছিলে জেলাশাসকও

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, 'দেশ স্বাধীন হল, আমরা দেশ হারালাম।'

দেশভাগের যন্ত্রণাদায়ক ইতিহাস ও অগুনতি মানুষের ত্যাগকে স্মরণ করে দেশের অন্যান্য প্রান্তের পাশাপাশি পুরুলিয়া জেলাতেও পালিত হলো ‘দেশভাগের বিভীষিকা স্মরণ দিবস’। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও জেলাবাসীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো এক ভাবগম্ভীর মোমবাতি মিছিল ও বিশেষ প্রদর্শনী।

শনিবার রাতে পুরুলিয়া জেলাশাসকের দপ্তর থেকে এই মোমবাতি মিছিলে পা মেলান প্রচুর মানুষ। হাতে ভারত মাতার ছবি ও জ্বলন্ত মোমবাতি নিয়ে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে রবীন্দ্র ভবনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জেলাশাসক সুধীর কোন্থম এবং জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্র ভবনে পৌঁছানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশভাগের ইতিহাস, যন্ত্রণা ও ভিটেমাটি হারানোর ভয়াবহতা নিয়ে এক বিশেষ তথ্যচিত্র এবং চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে ফুটে ওঠে দেশভাগের সেই কালো দিনগুলির করুণ দৃশ্য।

মিছিলে অংশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী ঘোষ জানান, "এই বিশেষ দিনে ইতিহাসকে নতুন করে স্মরণ করার সুযোগ পেয়ে  আপ্লুত"।

জেলা তথ্য আধিকারিক  সিদ্ধার্থ চক্রবর্তী এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, "এই কর্মসূচি কোনো আনন্দের উদযাপন নয়, বরং দেশভাগ ও নোয়াখালি-কলকাতা দাঙ্গায় ভিটেমাটি হারানো লাখ লাখ মানুষের যন্ত্রণা ও ত্যাগের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আয়োজিত এই মোমবাতি মিছিলের মূল উদ্দেশ্য তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের প্রকৃত ইতিহাসের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই চেতনার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্কুল-কলেজেও দেখানো হবে।"

এদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দেশভাগ সংক্রান্ত একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহাসিক চেতনা জাগ্রত করতে এই তথ্যচিত্রটি আগামী দিনে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজেও প্রদর্শিত হবে।