নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া
নাটকীয় রাজনৈতিক মোড় পুরুলিয়া জেলা পরিষদে। সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতোর বিরুদ্ধে দলীয় সদস্যদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি ঘিরে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৈরি হলো এক অভাবনীয় পরিস্থিতি। নির্ধারিত অনাস্থা সভায় দেখা মিলল না তৃণমূল বা বিরোধী দল কোনো পক্ষেরই কোনো সদস্যের।
সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলা পরিষদের ২৪ জন সদস্য যৌথভাবে সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো এবং সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে পৃথক অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন অনুসরণে মেদিনীপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আইনি পথেই চিঠি পাঠানো হয় এবং অনাস্থা ভোটাভুটির আর্জি জানানো হয়। সেই আর্জির পর ১৯ দিনের মাথায়, রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার সভাধিপতির বিরুদ্ধে এই ভোটাভুটির দিন ধার্য করেছিল জেলা প্রশাসন।
সকাল থেকেই জেলা পরিষদ চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিই ভেস্তে যায় সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে। ৪৫ আসন বিশিষ্ট এই জেলা পরিষদে বর্তমানে ৪১ জন তৃণমূলের, ৩ জন বিজেপির সদস্য রয়েছেন এবং ১টি আসন শূন্য। তবে অনাস্থা প্রস্তাব তোলা ২৪ জন সদস্যের কেউই আজ ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ায় ভোটাভুটি হলই না।
এখন সমস্ত নজর আগামীকাল । কারণ, আগামীকাল নির্ধারিত রয়েছে সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ডাকা অনাস্থা প্রস্তাবের ভোটাভুটি। আজকের মতোই কি আগামীকালও ফাঁকাই থাকবে আসনগুলি, নাকি তৈরি হবে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ এখন সেদিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে আমজনতা।