রাজনীতি শহর

মোদীর ২৫ বছর: পুরুলিয়ায় বুথে বুথে প্রদীপ, উঠোনে উৎসব, মাসভর ১৩ কর্মসূচি বিজেপির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রতিনিধি হিসাবে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে পুরুলিয়ার ময়দানে নামছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাসে জেলায় মোট ১৩টি কর্মসূচি করার পরিকল্পনা নিয়েছে দল।
মোদীর ২৫ বছর: পুরুলিয়ায় বুথে বুথে প্রদীপ, উঠোনে উৎসব, মাসভর ১৩ কর্মসূচি বিজেপির


 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

বুথে বুথে প্রদীপ জ্বলবে। অঙ্গনওয়াড়ির উঠোনে হবে উৎসব। কোথাও পথনাটিকা, কোথাও রক্তদান, আবার কোথাও সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মুখে শোনা হবে ‘পরিবর্তনের কাহিনী’। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রতিনিধি হিসাবে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এমনই একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়ে পুরুলিয়ার ময়দানে নামছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন থেকে শুরু করে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাসে জেলায় মোট ১৩টি কর্মসূচি করার পরিকল্পনা নিয়েছে দল।

শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী, পড়ুয়া, মহিলা, যুবক-যুবতী থেকে সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন স্তরের নাগরিককে এর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির বিস্তারিত জানিয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে জেলা, মণ্ডল এবং স্থানীয় স্তরে ইতিমধ্যেই বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি শঙ্কর মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরী, স্থানীয় বিধায়ক এবং দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।

বিজেপির ঘোষণা অনুযায়ী, ১৩টি কর্মসূচির মধ্যে থাকছে—

১. আশীর্বাদের প্রদীপ

বুথ থেকে পরিবার—সব স্তরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান। মোদীর ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্পের বার্তাও দেওয়া হবে।

২. ২৫ কোটি শিশুর স্বপ্নের ভারত

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ নিয়ে ছবি আঁকা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা হবে। শিশুদের চোখে ভবিষ্যতের ভারতের ছবি তুলে ধরাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।

৩. নমো সেবা গাথা

পথনাটিকা, গান, সংলাপ ও অভিনয়ের মাধ্যমে মোদীর ২৫ বছরের জনসেবা, বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং দেশের পরিবর্তনের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। স্কুল, কলেজ, পঞ্চায়েত এবং জনসমাগমের জায়গাগুলিকেও যুক্ত করা হবে।

৪. উঠোনের উৎসব

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উঠোনে শিশু ও মায়েদের নিয়ে হবে এই কর্মসূচি। পুষ্টি, স্বাস্থ্য, টিকাকরণ, মাতৃ সহায়তা ও শিশু কল্যাণের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সুবিধাভোগী মায়েদের সম্মানও জানানো হবে।

৫. পরিবর্তনের কাহিনী

সরকারি প্রকল্পে কার জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে, সেই গল্প এবার শোনা হবে সুবিধাভোগীদের মুখে। তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুফল তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

৬. বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়ন, পরিকাঠামো, অর্থনীতি, নিরাপত্তা বা জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে—এমন জায়গাগুলিকে তুলে ধরা হবে। ইনফ্লুয়েন্সার এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সেই সব জায়গায় নিয়ে গিয়ে পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরার পরিকল্পনা।

৭. সেবা জ্যোতি যাত্রা

গ্রাম, জেলা ও রাজ্য স্তরে মানুষের অংশগ্রহণে হবে এই যাত্রা। বিভিন্ন দিক থেকে ছোট ছোট যাত্রা এসে নির্দিষ্ট জায়গায় মিলিত হবে। সেখানে জনসভা, সরকারি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা এবং সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হবে। শেষে নেওয়া হবে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর সংকল্প।

৮. ভাদনগর থেকে বারাণসী জল, জন ও সেবা সংকল্প যাত্রা

গুজরাটের বিভিন্ন পবিত্র নদী থেকে জল সংগ্রহ করে ২৫০টি বাইকে ৫০০ জন যাত্রী ভাদনগরে পৌঁছাবেন। হাটকেশ্বর মহাদেবের জলাভিষেকের পরে সেই জল নিয়ে কাশীর উদ্দেশে যাত্রা হবে। বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথের জলাভিষেক করা হবে।

বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রার বিভিন্ন দল বিভিন্ন পথ ধরে এগোবে। পথে গ্রাম ও মানুষের কাছে পৌঁছে শুধু বক্তৃতা নয়, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হবে।

৯. সেবা আমার যোগদান

‘নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের জন্য কিছু করা’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে নাগরিকদের বিভিন্ন সেবামূলক কাজে যুক্ত করা হবে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গ্রাম দত্তক, যোগ ও ধ্যান, নারী স্বাস্থ্য, দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, কেরিয়ার কাউন্সেলিং, জল সংরক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ভোটার সচেতনতা এবং সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা—এমন ২৫ ধরনের কাজের তালিকা রয়েছে।

১০. সেবা সেতু অভিযান—সরকার আপনার দোরগোড়ায়

বিধানসভা ও ব্লক স্তরে শিবির করে এক জায়গা থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পের তথ্য এবং সুবিধা পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। যোগ্য মানুষকে সরকারি সুবিধা পেতে যাতে বার বার দফতরে ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

১১. আলপনার রাষ্ট্র

জনসমাগমের জায়গায় বড় আকারের ‘হিউম্যান আলপনা’ বা রঙ্গোলির মাধ্যমে মোদীর জনকল্যাণমূলক কাজ, জাতীয় প্রতীক এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর ভাবনা তুলে ধরা হবে। স্থানীয় শিল্পী, মহিলা, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, পড়ুয়া, এনসিসি, এনএসএস এবং সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হবে।

১২. রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ

যুবসমাজ, পড়ুয়া, স্টার্টআপ, পেশাজীবী এবং উদ্ভাবকদের নতুন ভাবনা ও নতুন সমাধান নিয়ে এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া হবে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, বেঙ্গালুরু, দিল্লি এবং কলকাতায় পাঁচটি আঞ্চলিক ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সেরা উদ্ভাবনগুলি জাতীয় স্তরের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে।

১৩. জনসেবক মহাকুম্ভ—পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্ট

১৭ অক্টোবর হবে এই এক মাসের কর্মসূচির শেষ পর্ব। দিল্লি, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ, সুরজকুণ্ড এবং বারাণসীকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার জনপ্রতিনিধিকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমবেত ভাবে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন, নরেন্দ্র মোদীর গত ২৫ বছরের জনসেবার উপরে ভিডিও প্রদর্শন, ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্প, জনপ্রতিনিধিদের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানানোর কর্মসূচি থাকবে। শেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সকলে একসঙ্গে ‘বিকশিত ভারত’-এর সংকল্প নেবেন।

পুরুলিয়ায় এই এক মাসের কর্মসূচিকে শুধু দলীয় আয়োজনের মধ্যে না রেখে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে পরিণত করতে চাইছে বিজেপি। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর আবেদন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পেয়েছেন এমন মানুষজনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকরাও যেন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই সামাজিক ও জনসেবামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন।