সাধারণ খবর শহর

জয়ন্তর পর এ বার সত্যবতী, ভারতীয় পুলিশ পদকের জন্য মনোনীত পুরুলিয়ার মহিলা কনস্টেবল

২০২৩ সালে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর জয়ন্ত চক্রবর্তীর ঝুলিতে এসেছিল ‘মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’। তিন বছর পর সেই একই সম্মানজনক পদকের জন্য মনোনীত হলেন পুরুলিয়া জেলা পুলিশের মহিলা কনস্টেবল সত্যবতী মাহাতো।
জয়ন্তর পর এ বার সত্যবতী, ভারতীয় পুলিশ পদকের জন্য মনোনীত পুরুলিয়ার মহিলা কনস্টেবল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক তদন্তের কিনারা, দুষ্কৃতীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার নজির গড়ে ২০২৩ সালে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর  জয়ন্ত চক্রবর্তীর ঝুলিতে এসেছিল ‘মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’। তিন বছর পর সেই একই সম্মানজনক পদকের জন্য মনোনীত হলেন পুরুলিয়া জেলা পুলিশের মহিলা কনস্টেবল সত্যবতী মাহাতো। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তাঁর এই স্বীকৃতিতে ফের জাতীয় স্তরে উঠে এল পুরুলিয়া পুলিশের নাম।

কর্মক্ষেত্রে নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘ দিনের প্রশংসনীয় পরিষেবার স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’-এর জন্য মনোনীত করা হয়েছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশের মহিলা কনস্টেবল সত্যবতী মাহাতোকে। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি কোভিড অতিমারি থেকে নির্বাচন পরিচালনা— একাধিক ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবেই এই পদক বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৬২ নম্বর ব্যাচের এই মহিলা পুলিশকর্মী বর্তমানে জেলা পুলিশের রিজ়ার্ভ অফিসের কম্পিউটার বিভাগে কর্মরত। ২০০৩ সালের ১৬ আগস্ট পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন সত্যবতী। দেখতে দেখতে প্রায় ২৩ বছরের কর্মজীবন। এই দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালনে তাঁর শৃঙ্খলা, দক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতার নজির একাধিক বার মিলেছে বলে পুলিশকর্তাদের দাবি।

বিশেষত কোভিড-১৯ অতিমারির সময় জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা, পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক সহায়তা, বাহিনীর চলাচল ও সমন্বয়ের দায়িত্ব এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন। রিজার্ভ অফিসের কম্পিউটার বিভাগে দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রেও তাঁর দক্ষতার প্রশংসা রয়েছে পুলিশ মহলে।

শুধু এ বারই নয়, এর আগেও কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন সত্যবতী। কর্মজীবনে ‘ডাবল গুড সার্ভিস মার্কস’ এবং ‘গুড সার্ভিস মার্কস’-সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। ফলে এ বার ভারতীয় পুলিশ পদকের জন্য মনোনয়ন তাঁর দীর্ঘ পরিষেবা ও কাজের ধারাবাহিক স্বীকৃতি হিসাবেই দেখছে জেলা পুলিশ।

২০২৩ সালের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালেও পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জয়ন্ত চক্রবর্তীর হাতে উঠেছিল ‘মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস’। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তদন্ত, দুষ্কৃতীদের মূল স্রোতে ফেরানোর মতো একাধিক কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে সে সময়ে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ বার সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন সত্যবতী।

পুলিশ আধিকারিকদের মতে, পদক ব্যক্তিগত সাফল্য হলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গোটা বাহিনীর সম্মান। সত্যবতীর এই মনোনয়ন তাই পুরুলিয়া জেলা পুলিশের কাছেও গর্বের। দীর্ঘ দিন ধরে নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব সামলে যাওয়া এক মহিলা পুলিশকর্মীর কাজের এমন স্বীকৃতি বাহিনীর অন্য কর্মীদেরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

স্বাধীনতা দিবসের আগে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ মহলে খুশির আবহ। ২০০৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া সত্যবতীর প্রায় দুই দশকের বেশি সময়ের পরিষেবার স্বীকৃতি এ বার জাতীয় স্তরের পদকের তালিকায়।