অন্যান্য ব্লক

অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে অনন্য নজির হুড়ায়, স্কুলের মধ্যে জমে থাকা আর্বজনা শ্রম দিয়ে পরিষ্কার করলেন লেনিন- মমতা

এমনিতেই টাকা পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। তার মধ্যে হুড়ার এই দম্পতির কাজ নজর কেড়েছে অনেকের।
অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে অনন্য নজির হুড়ায়, স্কুলের মধ্যে জমে থাকা আর্বজনা শ্রম দিয়ে পরিষ্কার করলেন লেনিন- মমতা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি,হুড়া:

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা পেয়ে কোথাও চলছে বিজয় মিছিল, আবার না পেয়ে কোথাও বিক্ষোভ। তার মাঝেই ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল হুড়ায়। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েই  সমাজ সচেতনতার বার্তা দিয়ে গ্রামের স্কুলের নলকূপ সহ আশেপাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করলেন এক মহিলা। তা দেখে চুপ থাকতে পারেননি তাঁর স্বামীও। সহধর্মিনীর সঙ্গে হাত মেলালেন তিনিও। স্বামী-স্ত্রীর এই উদ্যোগে ফের সচল হয়েছে স্কুলের নলকূপ।

হুড়া থানার আমলাতোড়া গ্রামের বাসিন্দা লেনিন মাহাতো। মা, বাবা, দুই মেয়ে ও স্ত্রী মমতা মাহাতোকে নিয়ে তাঁর ভরা সংসার। বাড়িতে রয়েছে ছোট গ্যারেজ। সেখান থেকে যা সামান্য আয় হয়,তা দিয়ে মোটামুটি চলে যায় সংসার । আর  স্ত্রী মমতা মাহাতো সামলান সংসারের কাজ। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা মমতা মাহাতোর অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে।

তবে সেই টাকা পেয়েই চুপ থাকেননি মমতা। সমাজের জন্য কিছু করার ভাবনা জাগে মনে । গ্রামের স্কুলের নলকূপে জমে থাকা আবর্জনার দিকে নজর পড়ে যায়। সোমবার সকালেই কোদাল আর ময়লা ফেলার ধামা হাতে পরিষ্কার করার কাজে নেমে পড়েন । তা দেখে দোকান বন্ধ করে স্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলান স্বামী লেনিনও। তাঁদের উদ্যোগে ফের সচল হয়েছে স্কুলের নলকূপ। লেনিন বলেন, "সমাজের জন্য স্ত্রীর এই কাজ দেখে আর বসে থাকতে পারিনি। নিজেও পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছিলাম।"
আর  মমতা মাহাতো বলেন, " অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা হাতে পেতেই সমাজের জন্য কিছু করার ভাবনা হয়েছিল। গ্রামের স্কুলের মধ্যে থাকা নলকূপটি আবর্জনায় ভরে থাকতে দেখে মনে হল, আগে এটা পরিষ্কার করা দরকার। তারপরেই কাজে নেমে পড়ি। তিনি আরও বলেন, তেমন বড় কাজ কিছু করিনি।  একজন মা হিসেবে যেটা করা উচিত, সেটাই করেছি। ভবিষ্যতেও যদি সুযোগ পাই, সমাজের জন্য আরও কাজ করব।"

পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগিয়ে বৃক্ষরোপণের বার্তা দিয়েছেন এই দম্পতি। গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি। সেগুলো সযত্নে বেড়া দিয়েছেন তাঁরা । সমাজ মাধ্যমে দম্পতির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।  শান্তনু চক্রবর্তী নামে একজন শিক্ষক লিখেছেন, 'প্রশংসনীয় ও মহান উদ্যোগ।' বিশ্বনাথ মাহাতো নামে আর এক শিক্ষক লিখেছেন "সমাজসেবার প্রতি তোমাদের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তোমাদের এই মহৎ উদ্যোগ বিশেষ করে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে যাঁরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই সমস্ত মহিলাদেরও সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। তোমাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, ছোট ছোট ভালো কাজও সমাজে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। "
পূর্ণিমা গরাই নামে একজন মহিলা লিখেছেন,'সমাজ বদলায় বড়বড় কথায় নয়,এমন ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগেই।'
এমনিতেই টাকা পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। তার মধ্যে হুড়ার এই দম্পতির কাজ নজর কেড়েছে অনেকের।