নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
কলকাতা ও হাওড়ার আন্দুলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। শহরের বড় বড় হোটেল কিংবা বহুতল আবাসনগুলি কতটা সুরক্ষিত? বড়সড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি কি আদৌ আছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই পুরুলিয়া শহরজুড়ে কড়া নজরদারি ও তৎপরতা শুরু করল জেলা দমকল বিভাগ।
শুধুমাত্র নথিপত্র পরীক্ষা বা পরিদর্শন নয়, দুর্ঘটনা কবলিত অবস্থায় কর্মী ও বাসিন্দারা কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, তা সরাসরি পরখ করে দেখতে বুধবার শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ মক ড্রিল। বুধবার দমকলের একটি ইঞ্জিন নিয়ে এসে সেখানে কৃত্রিমভাবে আগুন জ্বালিয়ে তা নেভানোর বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয় হোটেল কর্মীদের। অভিযান চলাকালীন দমকল অধিকারিকরা হোটেল ও বহুতল আবাসনগুলিতে কয়েকটি বিষয় বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেন,
আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত জল সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সচল রয়েছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে হবে।
ধোঁয়া বা আগুন প্রথম চোখে পড়ার সাথে সাথে কীভাবে ধীরস্থিরভাবে পর্যটক বা বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে বের করে আনা যায়, তার কৌশল শেখানো হয় কর্মীদের।
দমকল বিভাগ ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক গৌতম রায় বলেন,"কলকাতা ও হাওড়ার সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করছি। পুরুলিয়া শহরের হোটেল এবং বহুতল ভবনগুলির অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ। পর্যাপ্ত জল রাখা ও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা চালু রাখা বাধ্যতামূলক। কর্মী ও বাসিন্দাদের সচেতন করতেই এই মক ড্রিলের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে আপৎকালীন সময়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।"
পুরুলিয়া ডিসট্রিক্ট হোটেল অ্যান্ড লজ কিপার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কৌশিক সিনহা বলেন,"দমকল বিভাগের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং কর্মীদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা আমরা হাতে-কলমে শিখতে পারলাম। এটি আমাদের হোটেলের নিরাপত্তা যেমন বাড়াবে, তেমনই এখানে থাকা পর্যটক ও অতিথিদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।"
জরুরি অবস্থায় আতঙ্কিত না হয়ে কীভাবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আগুন মোকাবিলা করা সম্ভব, তার এই ব্যবহারিক পাঠ শিখে আশ্বস্ত বোধ করছেন হোটেল কর্তৃপক্ষও।