নিজস্ব প্রতিনিধি , জয়পুর:
ধানজমিতে ইউরিয়া ছড়ানোর সময় এসে গিয়েছে। কিন্তু বাজারে সার নেই। ফলে রাত দুটো থেকে বৃষ্টির মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলল না সার। বুধবার জয়পুরে এমনই অভিযোগ তুলে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন এক দল চাষি। তাঁদের অভিযোগ, সার পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার উপর সরকারি দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত জয়পুর-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কের জয়পুর চেকপোস্টের কাছে। সেখানে একটি সরকারি অনুমোদিত সারের দোকানের সামনে বুধবার সকাল থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন চাষিরা। সকাল ৯টা পেরিয়ে গেলেও দোকান না খোলায় অপেক্ষারত চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। পরে তাঁরা রাস্তায় বসে পড়ে অবরোধ শুরু করেন। কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চাষিদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে দেয়।
আমন ধান রোপণের প্রায় এক মাস পর জমিতে ইউরিয়া প্রয়োগ করেন চাষিরা। সেই সময়েই জোগানে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। কৃষকদের অভিযোগ, ‘‘ভোর থেকে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছি। অথচ সময়মতো সার দেওয়া হচ্ছে না। তার সঙ্গে দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে।’’
আরও ক্ষোভের কারণ হয়েছে দামের ফারাক। চাষিদের দাবি, তাঁরা রাত দুটো থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এক বস্তা করে ইউরিয়া হাতে পান। তাঁদের কথায়, ‘‘বস্তা প্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ সরকারি দাম ২৬৬ টাকা বলে শুনেছি।’’
প্রশাসনের অবশ্য বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকাতেই এ দিন দোকানের সামনে এতটা ভিড় হয়। পরিবহণ খরচ যোগ হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি পড়ছে। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই আশ্বাস প্রশাসনের।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকে জেলায় সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাষিদের চাহিদা অনুযায়ী সার পাঠানোর পাশাপাশি জয়পুরে একটি দোকানের উপর চাপ কমাতে আরও কয়েকটি সরকারি অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।