সাধারণ খবর অন্যান্য শহর

শহরের বুকে রক্তের সংকট মেটাতে এক অভিনব সামাজিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া

একদিকে প্রতিষ্ঠা দিবসের নবম বছরে পা দিয়ে উৎসবের দিনটিকে রক্তদানের মাধ্যমে উদযাপনের পথ বেছে নিল ‘পুরুলিয়া ফাউন্ডেশন’, অন্যদিকে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি রক্তের চাহিদার বার্তা পেয়েই ময়দানে নেমে পড়ল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সমস্বর’।
শহরের বুকে রক্তের সংকট মেটাতে এক অভিনব সামাজিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

শহরের বুকে রক্তের সংকট মেটাতে এক অভিনব সামাজিক মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। একদিকে প্রতিষ্ঠা দিবসের নবম বছরে পা দিয়ে উৎসবের দিনটিকে রক্তদানের মাধ্যমে উদযাপনের পথ বেছে নিল ‘পুরুলিয়া ফাউন্ডেশন’, অন্যদিকে মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি রক্তের চাহিদার বার্তা পেয়েই ময়দানে নেমে পড়ল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সমস্বর’। রবিবার, ২৩ আগস্ট শহরের দুটি পৃথক প্রান্ত ‘আপনা ঘর আশ্রম’ এবং ‘এম.এম. হাই স্কুল’-এ এই জোড়া রক্তদান শিবির আয়োজিত হয়।

উৎসব মানেই কেবল আড়ম্বর নয়, বরং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এই বার্তা দিয়েই আপনা ঘর আশ্রমে শিবিরের শুভ সূচনা করে পুরুলিয়া ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের সম্পাদক জয়দেব সিং জানান, "আমাদের সংগঠনের নবম বর্ষপূর্তির এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই আমরা রক্তদানের মতো জীবনদায়ী উদ্যোগকে বেছে নিয়েছি। ৯ বছর ধরে পুরুলিয়ার মানুষের পাশে থেকে আমরা যে ভালোবাসা পেয়েছি, এই শিবিরের মাধ্যমে সমাজের প্রতি সেই ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করার চেষ্টা করলাম।" এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে রক্তের ঘাটতির খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্যোগী হয়ে এম.এম. হাই স্কুলে শিবিরের আয়োজন করে সমস্বর। রক্তদানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে সংগঠনের সম্পাদক শ্রীজীব পতি বলেন, "আমরা নিয়মিত নানা সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকি। তবে ইদানীং রক্ত সংকট কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে, বিভিন্ন খবরের ভিত্তিতে আমরা আঁচ করতে পেরেছিলাম। সেই তাগিদ থেকেই আমাদের এই জরুরি উদ্যোগ। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়া পেয়ে আমরা আপ্লুত।"

শিবিরে উপস্থিত থেকে সামাজিক এই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন জানান আপনা ঘর আশ্রমের প্রতিনিধি সুজিত সুলতানিয়া। রক্তদানের উপকারিতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "রক্তদানই সর্বশ্রেষ্ঠ দান। অনেকেই মনে করেন রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। রক্তদানের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শরীরে নতুন রক্ত তৈরি হয়ে যায়। এতে যেমন একজনের জীবন বাঁচে, তেমনই যিনি দান করছেন তাঁর শরীরও পরিশোধিত হয়। তাই সাধারণ মানুষের উচিত আরও বেশি সংখ্যায় এগিয়ে আসা।"

দিনের শুরু থেকেই দুটি শিবিরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশিষ্টজনদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। রক্তদাতাদের উৎসাহ ও দুই সংগঠনের সমন্বিত সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুরো পুরুলিয়াবাসী।