নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
শাসক থেকে বিরোধী সবাই গেরুয়া। অনাস্থায় অপসারিত হয়েও তৃণমূলের উপপ্রধানের ভোট বিজেপিকে। এমন বিচিত্র চিত্র বাঘমুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে।
২০ আসনের বাঘমুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভাগ্য মাছোয়ার ও উপপ্রধান জয়দেব সিংহের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন ১৪ জন সদস্য যার মধ্যে তৃণমূলের সদস্যই ছিলেন ১১ জন। অনাস্থা বৈঠকে অপসারিত হলেও নতুন বোর্ড গঠনে নাটকীয় ভূমিকা নেন তৃণমূলের অপসারিত উপপ্রধান জয়দেব সিংহ। অপসারণের পর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উপস্থিত হয়ে তিনি প্রকাশ্যেই বিজেপি সমর্থিত বোর্ডের দিকে সমর্থন বাড়িয়ে দেন।
১৫ জন সদস্যের সমর্থনে তৃণমূলের রাধানাথ কৈবর্ত প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হলেও জয়ের পর পরই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে চাপিয়ে এবং আবির খেলে সরাসরি বিজেপির মিছিলে পা মেলান তিনি। উন্নয়নের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান নবনির্বাচিত প্রধান। অন্যদিকে, বিজেপির ফটিকচন্দ্র কুমার উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ভোট প্রক্রিয়া ও বোর্ড গঠনের আগেই কার্যালয়ের দৃশ্যপটও পরিবর্তিত হয়ে যায়, নীল-সাদার বদলে ভবনটি রাঙিয়ে তোলা হয় গেরুয়া রঙে।
উল্লেখ্য, ২০২৩-এর ভোটে তৃণমূল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সম্প্রতি কয়েকজন তৃণমূল সদস্যের অযোধ্যা পাহাড়ের মন্দিরে গিয়ে গেরুয়া পতাকা নেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই জল্পনা তৈরি হয়। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক দলবদলের অনুমতির অপেক্ষা থাকলেও বাস্তবে স্থানীয় প্রতিনিধিরা যে বিজেপির দিকেই ঝুঁকছেন, তা বাঘমুন্ডির নতুন বোর্ড গঠন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল।