নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও ঝালদা:
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশিকার পরই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে পুরুলিয়া জেলাজুড়ে কোমর বেঁধে মাঠে নামল প্রশাসনের বিশেষ টাস্ক ফোর্স। মঙ্গলবার পুরুলিয়া শহর থেকে শুরু করে ঝালদা সর্বত্রই চলল টাস্ক ফোর্সের আচমকা পরিদর্শন ও তল্লাশি অভিযান।
মঙ্গলবার সকালে পুরুলিয়া শহরের একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রুফটপ রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় প্রতিনিধি দল। খাবারের মান, রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মেনু অনুযায়ী নির্দিষ্ট দাম এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনকালে কয়েকটি ক্ষেত্রে গাফিলতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নোটিস জারি করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাশাসক সুধীর কোন্থমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চলা এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক , দমকল বিভাগ, বিদ্যুৎ দফতর, পূর্ত দফতর এবং পুরুলিয়া পুরসভার প্রতিনিধিরা।
অভিযান প্রসঙ্গে জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান, "মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই জেলার সর্বত্র খাদ্যদ্রব্যের সঠিক দাম ও মান নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কালোবাজারি রুখতে এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছে। খাবারের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে অতিরিক্ত দাম নেওয়া কোনো বিষয়েই আপস করা হবে না। অসঙ্গতি মিললে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
খাবারের পাশাপাশি চিনি ও সারের বাজারেও নজরদারি চালানো হয়। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেআইনি মজুতদারি রয়েছে কি না, তা দেখতে বিভিন্ন পাইকারি দোকান ও গোডাউনের নথি এবং ফিজিক্যাল স্টক পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া শাকসবজি, ফল, মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে শহরের একাধিক হাট-বাজারেও তল্লাশি চালানো হয়। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, কৃষি বিপণন ও খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের আধিকারিকেরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বর্তমান দর যাচাই করেন। ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট সতর্ক করে দেওয়া হয়, কৃত্রিম অভাব তৈরি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজার এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিললেও বাজার নিয়ন্ত্রণে এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা উভয় পক্ষই
ব্যবসায়ী শেখ সাহিদ বলেন,"আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা ন্যায্য দামে জিনিস বিক্রি করতেই বাধ্য, তবে পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হলে খুচরো বাজারে তার প্রভাব পড়ে। তাই গোডাউন স্তরে নজরদারি চালানো খুব জরুরি।"
ব্যবসায়ী বাবু সাও বলেন,"নিয়মিত নজরদারি থাকলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারবে না। স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।"
ক্রেতা সাগর চন্দ্র মাঝি বলেন,"এই ধরনের পরিদর্শন শুধু একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত করা উচিত। তবেই ব্যবসায়ীরা অযথা দাম বাড়ানোর সাহস পাবে না।"
অন্যদিকে, চিনির কালোবাজারি রুখতে এদিন ঝালদা শহরের একটি বড় চিনির গোডাউনে অভিযান চালায় প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের টিম। এসডিও ও এসডিপিও-র নেতৃত্বে চলা এই অভিযানে মজুত চিনির পরিমাণ ও স্টক লিস্ট যাচাই করা হয়। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা চালিয়ে কোনো বেআইনি অসঙ্গতি মেলেনি বলে খবর।
ঝালদার স্থানীয় ব্যবসায়ী জয়কুমার ভগত বলেন, "প্রশাসনের আধিকারিকেরা এসে সমস্ত নথিপত্র এবং মজুত মাল পরীক্ষা করেছেন। আমাদের কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। আমরা নিয়ম মেনেই ব্যবসা করছি এবং বাজারদর স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত।"
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, সঠিক মাপ ও খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে এবং বাজারে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রুখতে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ও নজরদারি আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকবে।