নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
ধর্ম যার যার, সম্প্রীতি সবার। এই আবহেই হজরত মহম্মদের জন্মবার্ষিকী উদযাপনে ভিন্ন বার্তা দিল পুরুলিয়ার ঝালদা। ঐতিহাসিক ১৫০১তম নবীদিবস উপলক্ষে বুধবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে সেই উৎসব পরিণত হলো সাম্প্রদায়িক ঐক্য ও মানবিকতার এক বড় মঞ্চে।
বুধবার সকালে ঝালদা শহরে একটি বিশাল শোভাযাত্রা ও শান্তি মিছিল বের করা হয়। সুসজ্জিত সেই মিছিলে আক্ষরিক অর্থেই মেলবন্ধন ঘটে নানা বয়সের ও সর্বস্তরের মানুষের। অশুভ শক্তি বা বিভেদের রাজনীতিকে দূরে ঠেলে কীভাবে মহানবীর সহমর্মিতা ও ঐক্যের শিক্ষাকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়িত করা যায়, সে বার্তাই উঠে আসে আয়োজকদের মুখে।
ঝালদা ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ-সভাপতি শেখ সুলেমান বলেন, "নবীজির মূল শিক্ষা ছিল মানবসেবা এবং একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ানো। আজকের দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত বিভেদ ভুলে সবাই মিলে একসঙ্গে চলা। ঝালদার এই ঐতিহ্যবাহী সম্প্রীতির সংস্কৃতিকে আমরা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখব।”
একই সুর শোনা গেল ঝালদার গ্রামবাসী মৌলানা হাজি আব্দুল হাকিমের কণ্ঠেও। তিনি জানান, “মহম্মদের বার্তা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়, তা সমগ্র মানবজাতির শান্তির জন্য। সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও মজবুত করতেই এই শোভাযাত্রা। সমাজে শান্তি বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
সমগ্র অনুষ্ঠান ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য ঝালদা থানার পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরজুড়ে কড়া নজরদারির মধ্য দিয়েই সম্প্রীতির এই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।