নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
কার্যত যেন বারুদের স্তুপের ওপর বসে পুরুলিয়া শহর। কলকাতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে কোন শিক্ষাই নেয়নি পুরুলিয়া। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শহরের ছোট-বড় বহু হোটেলেরই নেই দমকল বিভাগের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জলের বন্দোবস্ত কিংবা আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই অধিকাংশ জায়গাতেই। কোনো কোনো হোটেল গত ১০ থেকে ২০ বছর, এমনকি দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরে কীভাবে দমকলের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যবসা চালাচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ, পুরসভা ও দমকল বিভাগের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
সুরক্ষার অভাব নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মিলছে একই বাঁধা-ধরা অজুহাত। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা আছে এই বলেই দায় সারছেন তারা।
হোটেল ম্যানেজার অক্ষয় মন্ডল বলেন,
"আমরা দমকল বিভাগের লাইসেন্সের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই আবেদন জানিয়েছি। প্রক্রিয়াকরণ বিলম্বিত হওয়ায় এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে আমরা অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি"।
হোটেল ম্যানেজার দিলীপ মাহাতো জানান, "ব্যবসা তো আর একদিনে বন্ধ করা সম্ভব নয়। বছরের পর বছর ধরে একইভাবে চলছে। ফায়ার ফাইটিং লাইসেন্সের জন্য নথিপত্র জমা দেওয়া আছে, কিন্তু সরকারি পর্যায় থেকে লালফিতের ফাঁসে আটকে রয়েছে এনওসি।"
হোটেল কর্মী নিমাইচন্দ্র মাহাতো বলেন,
"আমরা তো কর্মচারী মাত্র, উপরতলার নির্দেশে কাজ করি। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কীভাবে চালাতে হয় বা আগুন লাগলে কী করতে হবে, সেই সংক্রান্ত কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ বা নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়নি।"
প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দিনের পর দিন এই অনিয়ম চললেও কেন কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, তাই নিয়ে জনমনে ক্ষোভ হচ্ছে। কোনো বড়সড় প্রাণহানি না ঘটা পর্যন্ত শিক্ষা হবে না প্রশাসন ও দমকল বিভাগের? উত্তর খুঁজছে পুরুলিয়াবাসী।