সুজয় দত্ত, পুরুলিয়া :
শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি। শিক্ষক দিবসে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান পুরস্কার ২০২৬’-এ সম্মানিত হচ্ছেন পুরুলিয়ার তিন শিক্ষক-শিক্ষাবিদ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা—শিক্ষার তিনটি স্তর থেকে এ বার এই সম্মানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে পুরুলিয়ার দীপক কুমার চক্রবর্তী, শিশির কুমার দেওঘরিয়া এবং অধ্যাপক (ডঃ) শুভাশিস ভট্টাচার্যকে।
দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত দীপক কুমার চক্রবর্তী বর্তমানে পুরুলিয়া শহরের আমডিহা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র জুনিয়র বেসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতার শুরু বাঘমুণ্ডির সুশনিডি ও খুদিডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খুদিডি স্কুলে ২০০৬ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি। পরে জয়পুরের ধবনি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গেঙাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব সামলেছেন। গত চার মাস ধরে আমডিহা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন। ধবনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন ২০১২ সালে স্কুলটি ‘শিশুমিত্র’ এবং ‘নির্মল বিদ্যালয়’ পুরস্কার পায়। পরে গেঙাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ও তাঁর সময়ে ২০২৪ সালে ‘স্বচ্ছ ও নির্মল পুরস্কার’ অর্জন করে। পুরুলিয়া শহরের মুন্সেফডাঙার বাসিন্দা দীপকের সেই কাজই এ বার স্বীকৃতি পেল রাজ্যস্তরে।
তিনি বলেন, এই সম্মান ভালো কাজ করার খিদে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরে সম্মান পাচ্ছেন হুড়া ব্লকের কলাবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঞ্জনিয়া জেডিআর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার দেওঘরিয়া। পেশায় গণিতের শিক্ষক শিশিরবাবুর শিক্ষকতা শুরু ১৯৯৮ সালে কেন্দা থানার কোনাপাড়া জুনিয়র হাইস্কুলে। ২০০৯ সালে পুরুলিয়া শহরের গান্ধী জুনিয়র হাইস্কুলে যোগ দেন। ২০১৯ সাল থেকে পাঞ্জনিয়া জেডিআর হাইস্কুলের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কুলে হস্টেল চালু করা থেকে শুরু করে স্কুলছুট পড়ুয়াদের ফের শিক্ষার মূল স্রোতে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বহু কিশোর-কিশোরী ফের স্কুলমুখী হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও স্কুলের ফলাফল নজর কেড়েছে।
তিনি বলেন, আমার একার কৃতিত্ব নয়, সহ শিক্ষকরা আপ্রাণ সহায়তা করেছেন বলেই বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি।
উচ্চশিক্ষা স্তরে পুরস্কার পাচ্ছেন সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক (ডঃ) শুভাশিস ভট্টাচার্য। ২০১৬ সাল থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তিনি। এর আগে প্রায় ১৫ বছর কোচবিহার কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্র স্বাস্থ্য অর্থনীতি এবং পরিবেশগত অর্থনীতি। এখনও পর্যন্ত তাঁর ৬০টির বেশি গবেষণাপত্র বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। লিখেছেন ন’টি বই এবং ৩৫-৩৬টি বইয়ের অধ্যায়। সম্পন্ন করেছেন আটটি মেজর রিসার্চ প্রজেক্ট। তাঁর তত্ত্বাবধানে সাত জন গবেষক পিএইচডি অর্জন করেছেন। কলকাতায় আদি বাড়ি হলেও বর্তমানে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা শুভাশিসবাবুর এই স্বীকৃতি জেলার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন কোন চ্যালেঞ্জ এখন? তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি আমাদের রাজ্যে সদ্য লাগু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা হচ্ছে। আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে যাতে সমস্যা দূর হয়।
৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে নিউ টাউনের টাউন কনভেনশন সেন্টার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সম্মান তুলে দেবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।