সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
রাজ্যজুড়ে বহুল চর্চিত আয়ুষ্মান ভারত ও রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা নানা বিভ্রান্তি ও আশঙ্কার নিরসন করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পুরুলিয়া জেলা সহ-সভাপতি সৌরভ সিনহা। সম্প্রতি পুরুলিয়াতেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ। আর এই উদ্যোগের সঙ্গেই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরলেন ।
বিজেপি সহ-সভাপতি সৌরভ সিনহা জানান, "আয়ুষ্মান ভারতের নির্ধারিত মাপকাঠি বা ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী রাজ্যের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ সরাসরি এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন। আয়ুষ্মান ভারতের তালিকার বাইরে থাকা বাকি প্রায় দেড় কোটি মানুষ যুক্ত হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’র সঙ্গে"।
তিনি আরও বলেন, এই দুটি স্বাস্থ্য প্রকল্পের মধ্যে বাস্তব কোনো পার্থক্য নেই। একটি সরাসরি কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং অন্যটি রাজ্যের মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গ। উদ্দেশ্য একটাই, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিক যেন রাজ্যের পাশাপাশি রাজ্যভিত্তিক সীমানা পেরিয়ে দেশের যেকোনো সরকারি ও নথিভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা পান।"
স্বাস্থ্যসাথি কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে বিজেপি সহ-সভাপতি স্পষ্ট জানান, "আপাতত স্বাস্থ্যসাথি বন্ধ হচ্ছে না।'আয়ুষ্মান ভারত' বা 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা' পৌঁছাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পুরনো 'স্বাস্থ্যসাথি' কার্ড পুরোপুরি চালু থাকবে। সফটওয়্যারটি এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির আয়ুষ্মান কার্ড সক্রিয় বা অ্যাক্টিভ হওয়ার পরেই পুরনো স্বাস্থ্যসাথি সিস্টেম থেকে নিজে থেকেই নিষ্ক্রিয় হবে। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"
প্রকল্পের ফর্ম পূরণ ও ডেটা আপলোডের কাজ বাস্তবায়িত করতে জেলাজুড়ে বাড়ি বাড়ি যাবেন আশা কর্মীরা। প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রবীণ আশা কর্মীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না বা অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানোর কোনো অভিযোগ উঠেছে কি না সে বিযষয়ে সৌরভ সিনহা বলেন, "প্রবীণ আশা কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক, তবে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করানোর মতো কোনো লিখিত বা নির্দিষ্ট অভিযোগ আমরা এখনো পাইনি। যদি আসে, তবে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনকে অবশ্যই জানানো হবে। আমাদের আশা দিদিদের দক্ষতার ওপর পূর্ণ ভরসা আছে। প্রতিটি যোগ্য উপভোক্তার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দিতে তাঁরা দিনরাত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন।"
সরকারের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই দুটি বড় প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে রাজ্য অনেকখানি এগিয়ে গেছে উল্লেখ করে পুরুলিয়ার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বিজেপি জেলা সহ-সভাপতির বার্তা, "আপনারা ভরসা রাখুন, ধৈর্য ধরুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি যোগ্য পরিবার এই পরিষেবার সুফল পাবেন।"