সংস্কৃতি শহর

গৌতম বুদ্ধের সুবিশাল মূর্তিতে সেজে উঠল পুরুলিয়া শহর

সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, "খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে শান্তির খোঁজে বেরিয়েছিলেন ভগবান বুদ্ধ। পুরুলিয়ার মতো শান্তিপ্ৰিয় জেলার প্রবেশদ্বারে ওঁর এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিদিন ওঁকে প্রণাম জানিয়ে ও আশীর্বাদ নিয়ে আমরা শহরে প্রবেশ করার সুযোগ পাব।"
গৌতম বুদ্ধের সুবিশাল মূর্তিতে সেজে উঠল পুরুলিয়া শহর

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

পুরুলিয়া শহরের বাসস্ট্যান্ডের প্রধান প্রবেশদ্বারে উন্মোচিত হলো  গৌতম বুদ্ধের সুবিশাল মূর্তি। রোটারি ক্লাব অফ পুরুলিয়ার উদ্যোগে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার উন্মোচন করা হলো মূর্তির আবরণ। গত ১৩ই জুন এই গৌতম বুদ্ধের মূর্তিটির উন্মোচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানান জটিলতায় তা হয়নি, ফলে প্রশ্ন উঠছিল শহরবাসীর মনে। পুরুলিয়া পুরসভার অনুমতিতে শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারের পুরোনো ফোয়ারার স্থানটিতে এই মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। গত চার বছর ধরে বাবাসাহেব জাগৃতি সমিতি এই স্থানে বুদ্ধ জয়ন্তী পালন করে আসছিল। তাদেরই প্রস্তাবে স্থানীয় পুরসভা ও রোটারি ক্লাবের যৌথ সহযোগিতায় মূর্তিটি স্থাপিত। বিশিষ্ট ভাস্কর রাহুল দাসের  হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি এই মূর্তি এখন শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। মূর্তির আবরণ উন্মোচনে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,  "খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে শান্তির খোঁজে বেরিয়েছিলেন ভগবান বুদ্ধ। পুরুলিয়ার মতো শান্তিপ্ৰিয় জেলার প্রবেশদ্বারে ওঁর এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিদিন ওঁকে প্রণাম জানিয়ে ও আশীর্বাদ নিয়ে আমরা শহরে প্রবেশ করার সুযোগ পাব।"

পুরুলিয়া বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, "বছরের পর বছর ধরে নানা কারণে জায়গাটি ফাঁকা পড়ে ছিল। শহরের মুখে সুন্দর কিছু গড়ার একটা ইচ্ছা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ছিল। রোটারি ক্লাব ও সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় সেই ইচ্ছা আজ পূর্ণ হলো। ভগবান বুদ্ধ পুরুলিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন, এটাই প্রার্থনা।"

শিল্পী রাহুল দেব দাস জানান," আমার কাছে একটি স্বপ্নের মতো দিন এবং বড় প্রাপ্তি। পুরুলিয়াবাসীর জন্য এমন একটি শিল্পকর্ম উন্মোচন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ভাস্কর্যটি এখানে স্থাপিত হওয়ায় একজন শিল্পী হিসেবে আমি গর্বিত। কাজটি তাদের কেমন লেগেছে, তা পুরুলিয়াবাসীই মূল্যায়ন করবেন তবে সার্বিকভাবে আমি অত্যন্ত আনন্দিত"।

রোটারি ক্লাবের সদস্য অজিত সরাওগি জানান, “এখন বিশ্বে যে একটা অশান্তির বাতাবরণ চলছে, যুদ্ধ চলছে , তার থেকে মুক্তি দিতে পারে শান্তির প্রতীক গৌতম বুদ্ধের আদর্শ।  পুরুলিয়ার যে প্রধান মোড়, এইখানে আমরা স্থাপিত তাঁর মূর্তি স্থাপন করেছি। পুরুলিয়াবাসীকে শান্তির প্রতীক হিসেবে উপহার দিলাম।”
বাবাসাহেব জাগৃতি সমিতির প্রতিনিধি সৌম্যদীপ মাহাতো বলেন, "গত চার বছর ধরে আমরা এই স্থানটিতে বুদ্ধ জয়ন্তী উদযাপন করে আসছি। শহরের বাসিন্দারা সকলেই জানেন, এটি আগে একটি ফোয়ারা ছিল, যা পরিষ্কার - পরিচ্ছন্ন করেই আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে এখানে একটি বুদ্ধমূর্তি স্থাপনের প্রস্তাব দিই। পুরসভা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে রোটারি ক্লাব এই দায়িত্বটি গ্রহণ করে এবং আজ তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বুদ্ধদেবের এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করে দিল"।
মূর্তি উন্মোচনের পর থেকেই দর্শনার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমতে শুরু করেছে মূর্তি প্রাঙ্গণে। উদ্যোক্তাদের মতে, এই বুদ্ধ মূর্তি কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, বরং একদা মাওবাদীদের আতঙ্কে ত্রস্ত জেলার প্রধান বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার মুখেই এই মূর্তি আগত সকলকে শান্তি, সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বার্তা দেবে।