ক্রাইম শহর

সেলুনে চুল কাটতে এসে যৌন হেনস্থার শিকার কিশোরী, পুরুলিয়ায় যুবকের ২৫ বছর কারাদন্ড

পরিযায়ী বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করার ঘটনায় এক যুবককে ২৫ বছর কারাদণ্ড দিল পুরুলিয়া জেলা আদালত।
সেলুনে চুল কাটতে এসে যৌন হেনস্থার শিকার কিশোরী, পুরুলিয়ায় যুবকের ২৫ বছর কারাদন্ড

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পরিযায়ী বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করার ঘটনায় এক যুবককে ২৫ বছর কারাদণ্ড দিল পুরুলিয়া জেলা আদালত। শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক  তথা স্পেশাল কোর্টের বিচারক রানা দাম অভিযুক্ত সন্তোষ ওরফে ফুচু প্রামাণিককে এই সাজা দেন।পাশাপাশি আদালত অপরাধীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। অন্যদিকে নির্যাতিতার পুনর্বাসনের জন্য তাকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ জারি করেছেন বিচারক।

২০২৪ সালের ৩০ শে মার্চ মানবাজার থানা এলাকার একটি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির বাবা-মা কর্মসূত্রে রাজ্যের বাইরে থাকেন।  সে ঠাকুরমার কাছেই থাকত। ঘটনার দিন সেলুনে চুল কাটতে গেলে নাবালিকাকে একা পেয়ে অভিযুক্ত নাপিত ফুচু প্রামাণিক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। খবর পেয়ে দুদিন পর বাবা-মা বাড়ি ফিরে   মানবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ  দায়ের করেন। তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সাব-ইনস্পেক্টর মৃত্যুঞ্জয় পাত্র অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে।


সরকারি আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়  বলেন, "শিশুদের ওপর যেকোনো ধরণের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে আদালত সবসময় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এই মামলায় তদন্তকারী অফিসার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সমস্ত আইনি প্রমাণ পেশ করেছেন। বিচারকের এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে এক স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, শিশুদের ওপর নজর দেওয়া বা নির্যাতন চালানোর পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আমরা আদালতের এই রায়কে পূর্ণ স্বাগত জানাচ্ছি।"

পুরুলিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু সুরক্ষার প্রশ্নে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি মেনে কাজ করছে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে তারা বদ্ধপরিকর।

ছবি : তদন্তকারী অফিসার ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি।