নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
সন্তান জন্মের পর রোগীর পরিজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। সেই অভিযোগ শুনেই আচমকা দেবেন মাহাতো গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বাসস্ট্যান্ড ক্যাম্পাসের প্রসূতি বিভাগে হাজির পুরুলিয়া বিধানসভার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ ঘিরে হাসপাতালের কর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযুক্ত কর্মীকে সামনে পেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয় হাসপাতালের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ীকেও।
রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর প্রসূতি বিভাগে কর্মরত কয়েক জন কর্মী তাঁদের কাছে টাকা দাবি করেন। অভিযোগ, কার্যত জোর করেই সেই টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ বিধায়ক সরাসরি প্রসূতি বিভাগে পৌঁছে যান।
অভিযুক্ত কর্মীকে উদ্দেশ করে বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, ‘‘সরকারি কর্মী হয়ে এ ভাবে টাকা চাইতে লজ্জা করে না?’’ একই সঙ্গে রোগীর আত্মীয়দেরও ভর্ৎসনা করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, টাকা চাওয়ার প্রতিবাদ না করে রোগীর পরিজনেরা তা দিয়ে দিচ্ছেন বলেই কর্মীদের একাংশের এমন ‘সাহস’ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার জন্য কোনও ভাবেই রোগীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি।
গোটা ঘটনার ভিডিও বিধায়কের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে বিধায়ককে হাসপাতালের কর্মীর কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
পরে ঘটনাস্থলে আসেন হাসপাতালের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী। তিনি রোগীর আত্মীয়দের কাছে গোটা ঘটনার লিখিত অভিযোগ চান। অভিযোগ লিখিত ভাবে জমা পড়লে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে চলা অন্যায় বন্ধ করতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। এমএসভিপি অভিযোগ করতে বলেন। ওঁরা অভিযোগ করেছেন।"
অন্যদিকে হাসপাতালের এমএসভিপি সুকোমল বিষয়ী বলেন," আমি ওঁদের নির্দিষ্ট করে অভিযোগ দিতে বলেছিলাম যে কে কে টাকা দিয়েছেন, কে কে নিয়েছেন, যেন বিস্তারিত সব লিখে দেওয়া হয়। কিন্তু যে লিখিত অভিযোগ এসেছে, তা নির্দিষ্ট নয়। টাকা নেওয়া হয় বলা হয়েছে। তবে কে কে নিয়েছেন আর কে কে দিয়েছেন তা লেখা নেই।"