শিক্ষা শহর

জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে বিজ্ঞান নাটকের বিশেষ প্রতিযোগিতা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়ার সম্পাদক স্বামী শিবপ্রদানন্দজী মহারাজ। পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, "নাটকীয় উপায়ে বিজ্ঞানকে প্রকাশ করার এই মাধ্যমটি শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয়।
জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে বিজ্ঞান নাটকের বিশেষ প্রতিযোগিতা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:


চেনা ক্লাসরুমের চারদেওয়াল বা পাঠ্যবইয়ের পাতার বাইরে এসে এবার নাটকের মঞ্চে বৈজ্ঞানিক ভাবধারাকে জীবন্ত করে তুলল জেলাভিত্তিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়ামস’-এর শাখা পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রর উদ্যোগে সম্প্রতি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘পুরুলিয়া জেলা ভিত্তিক বিজ্ঞান নাটক ২০২৬’। নাটকের সংলাপে ও অভিনয়ে বিজ্ঞান সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে সেরা শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে এ.জি.পি.এন. কনভেন্ট অ্যান্ড ই.আর. স্কুল।

মঙ্গলবার আয়োজিত এই জমজমাট প্রতিযোগিতায় পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ১০টি স্বনামধন্য বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছিল। প্রতিটি দলের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও যোগাযোগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের রায়ে বিজয়ী স্থান অধিকার করে এ.জি.পি.এন. কনভেন্ট অ্যান্ড ই.আর. স্কুল। পাশাপাশি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রথম রানার্স-আপ হয়েছে ‘ফিলিক্স স্কুল অফ এডুকেশন’। এই দুটি সফল দল এবার কলকাতার বুকে আয়োজিত 'রাজ্য ভিত্তিক বিজ্ঞান নাটক ২০২৬এ পুরুলিয়া জেলার প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবে।

প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্স-আপের খেতাব পেয়েছে হুটমুড়া হরিমতি গার্লস হাই স্কুল। এছাড়া বিশেষ মেধা স্থান অর্জন করেছে চিত্তরঞ্জন গার্লস হাই স্কুল এবং ঝাঁপড়া হাই স্কুল।

নাটকের মূল জায়গাগুলোতে একক পারদর্শিতার নিরিখেও জয়জয়কার এ.জি.পি.এন. কনভেন্টের। শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী তিনটি ক্যাটাগরিতেই সেরা পুরষ্কার জিতে নিয়েছে এই স্কুলের প্রতিভাবান প্রতিযোগীরা। অন্যদিকে, দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাওয়া কাহিনীর জন্য ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার এর সম্মান গিয়েছে হুটমুড়া হরিমতি গার্লস হাই স্কুল এর প্রতিযোগীর ঝুলিতে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠ, পুরুলিয়ার সম্পাদক স্বামী শিবপ্রদানন্দজী মহারাজ। পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী প্রয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, "নাটকীয় উপায়ে বিজ্ঞানকে প্রকাশ করার এই মাধ্যমটি শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেয়। তরুণ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে রামকৃষ্ণ মিশন ও বিজ্ঞান কেন্দ্র একইভাবে কাজ করে চলেছে"। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অধ্যাপক চণ্ডী মুখোপাধ্যায়, অধ্যাপক ছন্দম দেব এবং অধ্যাপক শান্তি কুন্ডু।

 

জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের এই প্রয়াস নিয়ে জেলা বিজ্ঞান আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, "বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এই উদ্যোগ। নাটক শিক্ষার্থীদের কেবল বৈজ্ঞানিক ধারণাই স্পষ্ট করে না, তাদের মধ্যে দলগত ভাব ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। আগামী দিনেও তরুণদের জন্য এমন সচেতনতামূলক মঞ্চ তৈরিতে বিজ্ঞান কেন্দ্র অগ্রণী ভূমিকা নেবে" ।