নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
সচেতনতার অভাবে পুরুলিয়া জুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু। ইতিমধ্যে আক্রান্ত ৪৩। তার মধ্যে পুরুলিয়া পুরসভা এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ জন। ডেঙ্গু দমনে প্রশাসনের অভিযান চলছে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, গত এক সপ্তাহে জেলায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই। কিন্তু পুরুলিয়ার গ্রামাঞ্চলের ছবিটা কি সত্যিই তেমন? মঙ্গলবার পুরুলিয়া-২ নং ব্লকের ঘোঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের টাটাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, যেখানে-সেখানে জল জমে রয়েছে। পড়ে রয়েছে আবর্জনাও। তার মধ্যেই প্রায় ১০টি পরিবারের সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
শুধু টাটাড়ি নয়, পুরুলিয়া শহর থেকে ঝালদা, রঘুনাথপুর— ৩ পুরসভা এলাকার একাংশেও গৃহস্থের বাড়ি সংলগ্ন জায়গা এবং লোকালয়ে জমে রয়েছে জল। কোথাও আবার আবর্জনার স্তূপ। ফলে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
টাটাড়ি গ্রামে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। খবর পেয়ে মেডিক্যাল টিম গ্রামে ঘুরেও গিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর পরেও গ্রামের আবর্জনা পরিষ্কারে পঞ্চায়েতের তরফে তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। মঙ্গলবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ধারে এবং বিভিন্ন লোকালয়ে ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনা। তার পাশেই জমে রয়েছে জল।
জ্বরে আক্রান্ত শেখ মতিউর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের গ্রামে প্রায় ১০টি পরিবারে জ্বর রয়েছে। গ্রামে আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্তও হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আবর্জনা সরাতে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’’
যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। ঘোঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভিআরপি সুপারভাইজার মহম্মদ রেহান বলেন, ‘‘ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। যাঁদের জ্বর হয়েছে, তাঁদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।’’
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পর্যন্ত পুরুলিয়া জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩। নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়েনি। ইতিমধ্যেই আক্রান্তদের অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে।