সাধারণ খবর ব্লক

লোকসংস্কৃতির ছাপে অন্নপূর্ণা মিছিলে বাজিমাত বান্দোয়ানের

বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে এই স্বতঃস্ফূর্ততাকে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির সাফল্য হিসেবেই বলেন,"মহিলাদের এই অনাবিল আনন্দ এবং সরাসরি রাজপথে নেমে আসার দৃশ্যই বলে দিচ্ছে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা কতখানি। "
লোকসংস্কৃতির ছাপে অন্নপূর্ণা মিছিলে বাজিমাত বান্দোয়ানের

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দোয়ান :

জঙ্গলমহলে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রভাব এখন আর স্রেফ সরকারি ঘোষণার নথিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা নেমে এসেছে লোকসংস্কৃতির আঙিনায়। সোমবার বিকেলে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানে যেন সেই ছবিরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। উপভোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাসে বদলে গেল ধুলোওড়া রাস্তার চেনা মেজাজ।

১৭ আগস্ট এই জেলায় সরকারি কর্মসূচিতে এসে রাজ্য সরকারের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্ব। তবে সোমবার বান্দোয়ান মন্ডল ৫ ও ৬-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে যে মেজাজ তৈরি হলো, তা জঙ্গলমহলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

মিছিলের অগ্রভাগে ছিল লোকায়ত ঐতিহ্যের আবহ। ঐতিহ্যবাহী মানভুঁইয়া গানের ছন্দে পা মেলাতে দেখা যায় শত শত স্থানীয় মহিলাকে। মিছিলের মধ্যমণি হিসেবে নজর কাড়ে বিশাল আকারের সুসজ্জিত মাটির হাঁড়ি এবং বর্ণিল কুলো—যার গায়ে আঁকা ও লেখা ছিল অন্নপূর্ণা যোজনার নানা দিক। গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোকে সামনে রেখে এই উদযাপন বস্তুত বার্তা দিল, প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের রোজকার জীবনের অভিজ্ঞতায় মিশে গেছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে এই স্বতঃস্ফূর্ততাকে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির সাফল্য হিসেবেই বলেন,"মহিলাদের এই অনাবিল আনন্দ এবং সরাসরি রাজপথে নেমে আসার দৃশ্যই বলে দিচ্ছে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা কতখানি। আমরা কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য কাজ করি না, সাধারণ মানুষের দরবারে তা পৌঁছে দিতে পেরেছি বলেই আজ এমন উচ্ছ্বাস।"
অন্নপূর্ণা যোজনা কেবল একটি ভাতা বা চাল-গমের সরকারি সাহায্য হয়ে থাকেনি, বরং জঙ্গলমহলের মহিলাদের আর্থ-সামাজিক আত্মবিশ্বাস জোগানোর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বান্দোয়ানের এই লোকসংস্কৃতি-নির্ভর উদযাপনে প্রতিফলিত হলো সাধারণ মানুষের সেই ভরসা ও কৃতজ্ঞতার নতুন ছবি।