নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
একটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কি কৌশলে 'স্তব্ধ' করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? পুরুলিয়ার ঝালদা থানার ডুড়গি গ্রামে অবস্থিত সারজুপ্রসাদ গভর্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কে ঘিরে ইদানীং উঠে আসছে ঠিক এই আশঙ্কাজনক প্রশ্নই। প্রায় দুই দশক ধরে চলা প্রশাসনিক অব্যবস্থা, ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের লাগাতার অনুপস্থিতি এবং ভোকেশনাল কোর্স বন্ধের মুখে দাঁড়ানোয় অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য প্রশাসন। নবান্নের নির্দেশে কলকাতা থেকে আসা তিন সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ক্যাম্পাসে পৌঁছে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে।
অভিযোগের মূল তীর ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান প্রিন্সিপালের দিকে। বাঘমুন্ডি বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানান যে, প্রতিষ্ঠানের পঠন-পাঠনের পরিবেশ ধ্বংস করে এটিকে বন্ধের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সেই চিঠির পরই রাজ্য প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির নির্দেশে তদন্তের এই পদক্ষেপ। তদন্তকারী দলের হাতে লিখিত অভিযোগ তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা।
জমিদাতা পরিবারের প্রতিনিধি
দেবাশীষ ওঝা বলেন, "এলাকার ছেলেমেয়েদের কারিগরি শিক্ষায় স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সালে আমাদের পরিবার জমি এবং নগদ ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা দান করেছিল। বছরের পর বছর প্রতিষ্ঠানটি দারুণ ভাবে চললেও গত দু'বছর ধরে পরিস্থিতি চরম অবক্ষয়ের দিকে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নতুন প্রিন্সিপাল আসার পর থেকে পঠন-পাঠন স্তব্ধ হতে বসেছে। আমাদের দাবি স্পষ্ট বর্তমান প্রিন্সিপালকে সরিয়ে একজন স্থায়ী ও দায়িত্বশীল প্রিন্সিপাল নিয়োগ করে পড়াশোনা আগের মতো স্বাভাবিক করা হোক।"
ইনস্টিটিউটের ভোকেশনাল শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন,
"নতুন প্রশাসনিক প্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমাদের বকেয়া বেতন পুরোপুরি আটকে রাখা হয়েছে। শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায়। অবিলম্বে বন্ধ থাকা বেতন চালু করতে হবে এবং নতুন সেশনে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিতে হবে।"
জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাত স্পষ্ট জানান, "কর্মরত কারও চাকরি যাতে না যায়, চালু কোর্স কোনোভাবেই বন্ধ না হয় এবং নতুন কোর্স যুক্ত করা হয় এই দাবিগুলি নিয়ে আমরা লড়াই করছি। তদন্ত রিপোর্টের পর প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।"