শিক্ষা শহর

সাক্ষরতার আলো ছড়াতে পুরুলিয়ায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

চিরাচরিত সাক্ষরতার গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে সবাইকে সুশিক্ষার আওতায় আনাই ছিল এ বছরের সাক্ষরতা দিবসের মূল সুর।
সাক্ষরতার আলো ছড়াতে পুরুলিয়ায় বর্ণাঢ্য র‍্যালি

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

চিরাচরিত অক্ষরজ্ঞানের গণ্ডি পেরিয়ে একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল যুগে প্রতিটি নাগরিককে স্বাবলম্বী ও সুশিক্ষিত করে তোলার নতুন বার্তা নিয়ে পুরুলিয়ায় উদযাপিত হলো আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।  মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য পদযাত্রা ও বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা।

মঙ্গলবার এই উপলক্ষে পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের কার্যালয় থেকে একটি সুসজ্জিত র‍্যালি বের হয়, যা শহর পরিক্রমা করে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এই পদযাত্রায় সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয় মানভূম মূক ও বধির বিদ্যাপীঠ, মানভূম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা নিকেতন, পুরুলিয়া জেলা স্কুল, নজরুল বালিকা বিদ্যাপীঠ এবং গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। হাতে সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড নিয়ে পড়ুয়ারা নিরক্ষরতা দূরীকরণের পক্ষে নানা স্লোগান দেয়।

পরবর্তীকালে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সভাকক্ষে মূল আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার প্রকৃত অর্থ ও বর্তমান যুগের উপযোগী সাক্ষরতার নানা দিক তুলে ধরেন উপস্থিত বিশিষ্ট বক্তারা।

সম্প্রতি বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মানে সম্মানিত পাঞ্জানিয়া জে. আর. হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিশির দেওঘরিয়া বলেন, "সাক্ষর মানুষ তাঁর অধিকার ও কাজের পরিধি সম্পর্কে সচেতন হন। শুধু পরিবার নয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে তিনি অবদান রাখেন। এখন তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগ; তাই আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেককে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমাদের শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে এবং সাক্ষরতার আলো সমাজজুড়ে পৌঁছে দিতে নারী, শিশু ও প্রবীণ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সুস্থ সমাজ গড়াই প্রধান লক্ষ্য।"

শিশুদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও গুণমানসম্পন্ন শিক্ষার ওপর জোর দেন গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা চন্দ্রা সাউ। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও স্কুলছুট শিশুদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "যারা এখনও শিক্ষার আলোতে পৌঁছাতে পারেনি, ছোট ছোট বাচ্চা যারা বাড়িতে বসে আছে বা পিছিয়ে পড়েছে, তারা যেন প্রত্যেকে নিয়মিত স্কুলে আসে। স্কুলে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে তারা যেন ভবিষ্যতে আদর্শ ও বড় মানুষ হতে পারে।"

কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, বরং যারা অর্ধ-শিক্ষিত বা শুধু স্বাক্ষর করতে পারেন, তাঁদের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য কেন্দ্রীয় উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও জেলা বিজেপি কোর কমিটির সদস্য গৌতম রায়। তিনি জানান, "অনেকে কেবল নিজের নামটুকু লিখতে শেখেন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পান না। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপের মাধ্যমে এখন ৮ম শ্রেণী উত্তীর্ণ যেকোনো ব্যক্তি শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো যাঁরা কেবল নাম লিখতে পেরেছেন, তাঁদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই যৌথ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আজকের দিনের মূল অঙ্গীকার।"

অনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক, জেলা জনশিক্ষা প্রসার আধিকারিক, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। চিরাচরিত সাক্ষরতার গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে সবাইকে সুশিক্ষার আওতায় আনাই ছিল এ বছরের সাক্ষরতা দিবসের মূল সুর।