নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
বিশেষ ভাবে সক্ষম এক কিশোরীকে ধর্ষণ এবং ভিডিও তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লাগাতার ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে কঠোর রায় দিল পুরুলিয়ার স্পেশাল আদালত। সোমবার অপরাধী দুই যুবককে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আড়শা থানা এলাকার ধানাড়া গ্রামের বাসিন্দা দুই অভিযুক্ত সহদেব মুখোপাধ্যায় এবং তার জেঠতুতো ভাই হারাধন মুখোপাধ্যায়কে এই ঘৃণ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলা জজ রানা দাম মূল অভিযুক্ত সহদেবকে প্রধান অপরাধের দায়ে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে, তাকে সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অপরাধে হারাধনকে ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। দুজনকেই ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে ,অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও এক বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর। ১৫ বছর বয়সী ওই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী বান্ধবীর বাড়ি যাচ্ছিল। পথে সিরিডি জঙ্গলের কাছে সহদেব তাকে জোরপূর্বক টেনে নিয়ে যায়। ধর্ষণ করে। হারাধন পুরো বিষয়টিতে সাহায্য করার পাশাপাশি নিজের মোবাইলে ওই দুষ্কর্মের ভিডিও শুট করে। পরবর্তীতে ঘটনাটি কারও কাছে প্রকাশ করলে ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কিশোরীকে চরম আতঙ্কের মধ্যে রাখে তারা। দীর্ঘদিন ভয়ে চুপ থাকার পর, ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরী মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করে সত্য তুলে ধরে। পরদিনই তার বাবা আড়শা থানায় এফআইআর দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পকসো আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। আড়শা থানার কাঁটাডি ফাঁড়ির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তথা সাব-ইন্সপেক্টর নিখিল প্রতাপ সিংহ দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। মূল অভিযুক্ত সহদেবকে প্রথম দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে মোবাইলসহ গা ঢাকা দেওয়া হারাধনকেও জালে আনে পুলিশ। সিআইডি-র ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয় বাজেয়াপ্ত মোবাইল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত সেরে মাত্র ৬০ দিনের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
সরকারি আইনজীবী আনোয়ার আলি আনসারি বলেন, "বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর ওপর হওয়া এই নারকীয় ও পরিকল্পিত অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের নিখুঁত তদন্ত এবং প্রমাণ বিচারালয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আদালত উপযুক্ত ও কঠোর সাজা দিয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।"
আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক এবং সোমবার তাদের সাজা ঘোষণা করা হয়।
ছবি : তদন্তকারী অফিসার ও দুই সাজাপ্রাপ্ত