সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া :
জন্মাষ্টমী মানেই ঘরে ঘরে তালের নানা পদ তৈরির আনন্দ আর শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় তালের বড়ার সুবাস। আর এই উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তুলতে পুরুলিয়ায় শুরু হলো রাজ্যস্তরীয় তাল মেলা ও প্রদর্শনী। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন দপ্তর এবং পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার শহরের এমএসএ ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এই বিশেষভাবে মেলার সূচনা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও তাল গাছে জল ঢেলে যৌথভাবে মেলার উদ্বোধন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, রাজ্যের মন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি, বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
মেলায় হাজির জেলার বিভিন্ন প্রান্তের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। জন্মাষ্টমীর অন্যতম মূল আকর্ষণ তালের বড়ার পাশাপাশি তালের পান্তুয়া, চুষি পিঠে, তালের ক্ষীর, প্যান কেক, মালপোয়া, সেদ্ধ পিঠে, কাকরা ও তালগুড়ের নানা স্বাদের পদ সাজিয়ে বসেছেন তারা। শুধু খাবারই নয়, তালের পাতা থেকে তৈরি নান্দনিক হস্তশিল্পও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে দর্শকদের।
জন্মাষ্টমীর এই বিশেষ সময়টিকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প অধিকর্তা কস্তুরী সেনগুপ্ত বলেন,"জন্মাষ্টমীর ঠিক মুখেই তালের এই বিপুল চাহিদাকে আমরা স্বনির্ভরতার হাতিয়ার করতে চেয়েছি। তালের নানা আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী পদ এবং তৈরি সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটানোই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।"
মন্ত্রী নদীয়ার চাঁদ বাউরি বলেন,
"জন্মাষ্টমী ও তাল দুটি একে অপরের পরিপূরক। এই মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন আমাদের বাংলার প্রাচীন তালের খাদ্যসংস্কৃতি রক্ষা পাচ্ছে, তেমনি গ্রামীণ পুরুষ ও মহিলাদের উপার্জনের একটি বড় পথ তৈরি হচ্ছে।"
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সঙ্গীতা মাহাতো বলেন,"জন্মাষ্টমীর সময় তালের খাবারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই মেলায় তালের বড়া, ক্ষীর ও পিঠে বিক্রি করে আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমাদের তৈরি জিনিস মানুষের এত পছন্দ হচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে।"
উৎসবের মরশুমে শহরের বাসিন্দাদের উপচে পড়া ভিড় এবং তালের রকমারি পদের স্বাদ গ্রহণ প্রমাণ করে দিচ্ছে, জন্মাষ্টমীর আনন্দকে দ্বিগুণ করতে এই তাল মেলা ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।