নিজস্ব প্রতিনিধি , পুরুলিয়া:
১৯৫০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। স্বাধীন ভারতের প্রথম আদিবাসী তালিকা প্রকাশের দিন। সেই তালিকায় নাম ছিল না কুড়মিদের। সেই ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদে প্রতি বছর এই দিনটিকে ‘কালা দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। এ বারও তার ব্যতিক্রম হল না। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, জঙ্গলমহলের চার জেলা—পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে পথে নেমে প্রতিবাদ জানালেন সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকেরা।
সংগঠনের অভিযোগ, ১৯৫০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রথম আদিবাসী তালিকায় কোনও নোটিফিকেশন ছাড়াই ছোটনাগপুরের বৃহৎ জনজাতি গোষ্ঠী ‘টোটেমিক কুড়মি’দের বাদ দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের সূচনালগ্নে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার নির্ধারণের সময় একই মানদণ্ডে অন্যদের তফসিলি উপজাতির তালিকায় স্থান দেওয়া হলেও কুড়মিদের বাদ দেওয়া হয় বলেই দাবি সংগঠনের।
সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই প্রতি বছর ৬ সেপ্টেম্বরকে ‘কালা দিবস’ হিসাবে পালন করে আসছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। রবিবার পুরুলিয়া-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় কালো পতাকা, ব্যাজ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংগঠনের সদস্যেরা।
কুড়মি সমাজের বক্তব্য, ১৯৫০ সালের ওই সিদ্ধান্তের জেরে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কুড়মি জনজাতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সেই ‘বঞ্চনা’র অবসান এবং কুড়মিদের তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিভিন্ন কুড়মি সংগঠন।
বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার থাকা সত্ত্বেও কেন এই ‘কালা দিবস’? সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নয়। ১৯৫০ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই এই দিন পালন করা হয়। যত দিন না আদিবাসী তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্তির দাবি পূরণ হচ্ছে, তত দিন এই কর্মসূচি চলবে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।