অন্যান্য ব্লক

‘পাহাড় কাটতে দেব না’, চণ্ডী মন্দির বাঁচাতে রঘুনাথপুরে বিশাল মিছিল

২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তৎকালীন রাজ্য সরকার রঘুনাথপুর ১ নং ব্লকের বেড়ো এবং খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাব গড়ার অনুমোদন দেয়। অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য কাজললতা পাহাড় কেটে গ্রানাইট পাথর তোলার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বদলাতে থাকে এলাকার চেহারা।
‘পাহাড় কাটতে দেব না’, চণ্ডী মন্দির বাঁচাতে রঘুনাথপুরে বিশাল মিছিল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর:

চণ্ডী পাহাড় কাটার প্রতিবাদে ফের পথে নামল রঘুনাথপুর। গ্রানাইট হাবের জন্য ঐতিহ্যবাহী চণ্ডী মন্দির এবং পাহাড়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে, এমন অভিযোগে রবিবার বিকেলে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ১ নং ব্লকের বেড়ো গ্রামে মিছিল করলেন হাজার হাজার মানুষ। রাজ্যে সরকার বদলেছে, কিন্তু পাহাড় ও মন্দির রক্ষার দাবিতে আন্দোলনের আঁচ কমেনি। বরং ফের প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে জোরালো হয়েছে প্রতিবাদ।

রবিবার বিকেলে রঘুনাথপুরের পুরাতন বেড়ো মোড় থেকে শুরু হয় পদযাত্রা। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। কাজললতা পাহাড় এবং তার পাদদেশে থাকা ঐতিহাসিক চণ্ডী মন্দির রক্ষার দাবিতে এই মিছিলে শামিল হন আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬-১৭ আর্থিক বছরে তৎকালীন রাজ্য সরকার রঘুনাথপুর ১ নং ব্লকের বেড়ো এবং খাজুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রানাইট হাব গড়ার অনুমোদন দেয়। অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য কাজললতা পাহাড় কেটে গ্রানাইট পাথর তোলার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বদলাতে থাকে এলাকার চেহারা। পাহাড়ের একাংশ কেটে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁদের আশঙ্কা, এই ভাবে পাহাড় কাটা চলতে থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে ঐতিহাসিক চণ্ডী মন্দিরেও।

পাহাড় রক্ষার দাবি অবশ্য নতুন নয়। তৃণমূল সরকারের আমলেই কাজললতা পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাহাড়ের নীচে থাকা চণ্ডী মন্দির রক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। একাধিক বার মিছিল, বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয়দের লাগাতার প্রতিবাদের জেরে এক সময় পাহাড় কাটার কাজ বন্ধও হয়ে যায়। সেই সময় গ্রানাইট হাবে কর্মরত শ্রমিকদের তাঁবুতে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এর পর কার্যত থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি ফের কাজ শুরু হয়েছে। আর তার পরেই নতুন করে সংগঠিত হয়েছে প্রতিবাদ। রবিবারের মিছিল তারই বহিঃপ্রকাশ।

রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড় কেটে গ্রানাইট পাথর উত্তোলনের প্রকল্পটি রূপায়ণ করছে রাজ্য সরকারের অধীন মাইনস অ্যান্ড মিনারেল ডেভেলপমেন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড। তবে প্রকল্প ঘিরে স্থানীয়দের আপত্তি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পাহাড় ও মন্দির রক্ষার দাবিতে সরব হয়েছে চণ্ডী মেলা উন্নয়ন কমিটিও। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে পাহাড়ের গায়ে গাছ লাগিয়ে সবুজায়ন করেছেন স্থানীয়রা। পাহাড় কাটলে নষ্ট হবে পরিবেশের ভারসাম্য, ক্ষতি হবে ছোটখাটো বন্যপ্রাণীরও।
প্রতিবাদীদের অভিযোগ, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাথর কাটার ‘ঠকঠক’ শব্দ, ধুলোবালি ও শব্দদূষণে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। উপরন্তু কাজললতা পাহাড়কে ঘিরে শীতের পিকনিক এবং রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো কর্মকাণ্ড হয়। পাহাড় কাটা হলে নষ্ট হবে সেই সম্ভাবনাও।