শুভদীপ মাহাত, পুরুলিয়া:
আধুনিকতার যুগে দাঁড়িয়ে প্রাচীন ভারতের গুরুকুল প্রথাকে ফিরিয়ে আনল পুরুলিয়ার সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের শিক্ষক দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগ এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে সনাতন রীতির যজ্ঞ ও হোম-এর মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করা হয়। এদিন বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম বা ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরার এই বৈদিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন শিক্ষাবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক সুজিত কুইরি। গুরু-শিষ্যের নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "গুরু-শিষ্য যেমন পিতা-পুত্রের মতো সম্পর্কে আবার আবদ্ধ হয় এবং শিক্ষার্থীদের যেমন গুরুদের সম্মান করার দায়িত্ব, সেরকম গুরুদেরও দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষার্থীদের সমস্ত সুবিধা ও অসুবিধার ক্ষেত্রে"।
প্রাচীন ঐতিহ্যকে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভারতবর্ষে প্রাচীনকাল থেকে এই ঐতিহ্য চলে আসছিল কিন্তু মাঝখানে কিছু কারণের জন্য এই পরম্পরায় বিরতি আসে। আমরা আবার আমাদের শিক্ষা বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে সেই প্রথাকে নিয়মিত করার চেষ্টা করেছি, তাই আজকে আমাদের এই উদ্যোগ। পূজা পার্বণের মধ্য দিয়ে শিক্ষক দিবস পালন করছি আমরা। এটাই আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি, ভারতীয় ঐতিহ্য। আমরা চাইবো এই প্রথা প্রত্যেকটা বিদ্যালয়ে, প্রত্যেকটা মহাবিদ্যালয়ে, প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে আসুক। পুজো পার্বণের মধ্য দিয়ে আমাদের নৈতিকতা, সততা, নিজের কর্মাবলী, নিজের গুণ সেটাকে যেন আমরা তুলে ধরতে পারি এবং সৎ আচরণের মধ্যে দিয়ে নিজের যেটুকু কাজ রয়েছে, গুরুদের যে কাজ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের যে কর্তব্য রয়েছে, সেই কর্তব্য যেন সবাই নৈতিকতার সাথে পালন করি”।