নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা :
দলের সদস্যদের ভোটেই সরতে হল তৃণমূলের সভাপতিকে। অনাস্থার তলবি সভায় তৃণমূলের সদস্যদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ায় অপসারিত হলেন ঝালদা-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপক সিং। মঙ্গলবার এই পঞ্চায়েত সমিতিতে ভোটাভুটিতে তাঁর পক্ষে পড়ে ১০টি ভোট। বিপক্ষে ১৬। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সভাপতির পদ খোয়াতে হল দীপককে।
গত মাদে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন মোট ১৬ জন সদস্য। তাঁদের মধ্যে তৃণমূলের আট, কংগ্রেসের ছয় এবং কুড়মি সমাজ-সমর্থিত দুই নির্দল সদস্য ছিলেন। মঙ্গলবারের তলবি সভায় সেই অনাস্থারই নিষ্পত্তি হয়। পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূলের জ্যোৎস্না কালিন্দীও মঙ্গলবার দীপকের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২৬ আসনের এই পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূল একাই পেয়েছিল ১৮টি আসন। কংগ্রেস পেয়েছিল ছ’টি এবং কুড়মি সমাজ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা পেয়েছিলেন দু’টি আসন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরেই বোর্ড গড়ে তৃণমূল। সভাপতি হন দীপক সিং। রাজনৈতিক পরিসরে তিনি বরাবরই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতোর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সরব হন দলেরই কয়েক জন সদস্য।
অনাস্থাকারীদের অন্যতম তৃণমূলের রমেশ সিং ঘাটোয়াল বলেন, ‘‘সভাপতির চেয়ারে বসে উনি যা খুশি করছিলেন। আমাদের কোনও মতামত নিতেন না। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমরা তার জবাব দিয়েছি।’’
তলবি সভাকে কেন্দ্র করে এ দিন পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরে ছিল ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা। অপসারণের পরে দীপক সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর জায়গায় কে বসবেন? ঝালদা-২ নং পঞ্চায়েত সমিতির পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা।