সাধারণ খবর শহর

হাই-ভোল্টেজ উচ্ছেদ! বুলডোজার চলতে শুরু পুরুলিয়ায়, অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুরুলিয়া শহরের রাস্তায় নামল বুলডোজার মেশিন। নিমেষের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একের পর এক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ নির্মাণ। তবে এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। উঠেছে পুনর্বাসনের জোরালো দাবি।
হাই-ভোল্টেজ উচ্ছেদ! বুলডোজার চলতে শুরু পুরুলিয়ায়, অনিশ্চয়তায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:


পুরসভার তরফে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টা আগেই। গত শুক্রবার পুরুলিয়া পুর কর্তৃপক্ষ ও পুরুলিয়া জেলা পুলিশ যৌথভাবে মাইকিং করে ফুটপাতের অস্থায়ী দখলদারদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভ্যাসবশত অনেকেই ভেবেছিলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পরও হয়তো এটি স্রেফ একটি রুটিন সতর্কবাণী। কিন্তু রবিবার সকালে সেই চেনা ছবিটা বদলে গেল। বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুরুলিয়া শহরের রাস্তায় নামল বুলডোজার মেশিন। নিমেষের মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একের পর এক অস্থায়ী দোকান ও অবৈধ নির্মাণ। তবে এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। উঠেছে পুনর্বাসনের জোরালো দাবি।

বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী তৃণমূল জমানাতেও একাধিকবার পুরুলিয়া শহরকে যানজটমুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে পিছু হটেছিল তৎকালীন প্রশাসন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, দখলদারদের সম্পূর্ণভাবে সরানো যায়নি। পুরুলিয়া পুরসভা ভেঙে প্রশাসক বসার পরও চেষ্টা চলেছিল। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই এবার শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রূপ দিতে মারমুখী মেজাজে অবতীর্ণ হলো পুরসভা ও পুলিশ প্রশাসন।

রবিবার সকাল থেকে পুরুলিয়া শহরের জেলা আদালত মোড় থেকে শুরু করে জেলাশাসকের দপ্তর লাগোয়া রাস্তা জুড়ে চলে এই হাই-ভোল্টেজ উচ্ছেদ অভিযান। মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। এর আগে একাধিকবার পুরসভার নির্দেশ অগ্রাহ্য করলেও, এবার আর কোনো রেয়াত করা হয়নি।

উচ্ছেদ হওয়া দোকানের  মালিক রহিম খান বলেন, "আমরা বহু বছর ধরে এই রাস্তার ধারে অস্থায়ী দোকান চালিয়ে আসছি। এই একটা দোকানের উপার্জনের ওপরই আমার পুরো পরিবারের ভরণপোষণ নির্ভর করে। এতদিন ধরে এলাকার প্রতিটা অস্থায়ী দোকান থেকে পুরসভা প্রতিদিন ১০ টাকা করে ট্যাক্স নিত। আজ হঠাৎ করে পুরসভার বাবুরা এসে বললেন জিনিসপত্র সরাতে হবে, দোকান ভাঙা হবে। ট্যাক্স নেওয়ার সময় আমরা বৈধ, আর আজ এক ঝটকায় অবৈধ হয়ে গেলাম? আমরা তো আইন ভাঙতে চাই না, কিন্তু আমাদের না খাইয়ে মেরে ফেলার কী মানে?"