নিজস্ব প্রতিনিধি, কাশিপুর :
বিয়ের এক মাসও কাটেনি। তার মধ্যেই মধ্যরাতে শোবার ঘরে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। আগুনে ঝলসে গুরুতর জখম নবদম্পতি। স্ত্রীকে বাঁচানো গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল স্বামীর। পুরুলিয়ার কাশিপুরের শ্যামপুর গ্রামের এই ঘটনায় এ বার অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে কাশিপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম প্রশান্ত সরেন (১৯)। মাসখানেক আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় কণিকা মুর্মুর। রবিবার রাতে খাওয়াদাওয়া সেরে একতলা পাকা বাড়ির একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নবদম্পতি। রাত তখন প্রায় একটা। আচমকাই ওই ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা। ছুটে এসে তাঁরা দেখেন, ঘর থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে এবং ভিতরে আগুন জ্বলছে।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা কোনও মতে ঘর থেকে প্রশান্ত এবং কণিকাকে উদ্ধার করেন। দু’জনকেই নিয়ে যাওয়া হয় কল্লোলি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরের দিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান কণিকা। তবে গুরুতর দগ্ধ প্রশান্তের চিকিৎসা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃতের বাবা কালিদাস সরেন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, কেউ বা কারা পরিকল্পিত ভাবে ঘরে আগুন লাগিয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে খুনের চেষ্টা করেছিল। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার বাঁকুড়ায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। আগুন কী ভাবে লাগল, ঘরের ভিতরে কোনও দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এবং ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।