স্বাস্থ্য শহর

বুড়ো হলেও যোগ রাখবে নীরোগ, জানিয়ে দিলো জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই বিশেষ দিনে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং ইউনিসেফএর সহায়তায় এই দিনটি উদযাপিত হয়।
বুড়ো হলেও যোগ রাখবে নীরোগ, জানিয়ে দিলো জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য ও চিকিৎসা পদ্ধতি যে আজও হরেক রোগ নিরাময়ের মহৌষধ, তা আবারও উচ্চারিত হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও পুরুলিয়া জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেল। জেলাজুড়ে এই দিনটি কার্যত একটি উৎসবের রূপ নেয়।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই বিশেষ দিনে পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের  পক্ষ থেকে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং ইউনিসেফএর সহায়তায় এই দিনটি উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা প্রসঙ্গে জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের শিক্ষা আধিকারিক সুমন কর্মকার জানান,
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের সূচনা হয়েছিল, আজ জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রে আমরা অত্যন্ত সাফল্যের সাথে তা পালন করলাম। সকাল সাড়ে ৬টা থেকেই আমাদের কর্মসূচি শুরু হয়ে যায়। শুরুতে উপস্থিত সকলে এলইডি স্ক্রিনে প্রধানমন্ত্রীর লাইভ ভাষণ শোনেন, যেখানে তিনি দৈনিক জীবনে যোগাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।"

চলতি বছরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল থিম বা ভাবনা ছিল "যোগা ফর হেলদি এইজিং" অর্থাৎ সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগা। এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করে শিক্ষা আধিকারিক সুমন কর্মকার আরও বলেন, বর্তমানের জটিল ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের যে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দেয়, নিয়মিত যোগব্যায়ামের মাধ্যমে তা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এবং যোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্তরের খ্যাতনামা যোগাসন প্রশিক্ষক ও ন্যাশনাল জাজ (জাতীয় বিচারক) মিলন দত্ত। স্পোর্টস অ্যান্ড ইয়ুথ ডিপার্টমেন্টের অন্তর্ভুক্ত 'যোগাসন ভারত'-এর সাথে যুক্ত মিলনবাবু ২০১৫ সালের প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস থেকেই এই আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

এদিনের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য নিয়ে মিলন দত্ত জানান, যোগের মূল লক্ষ্যই হলো এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটানো। এবারের থিম 'সুস্থ বার্ধক্য'-কে সামনে রেখে আমাদের প্রয়াস, যোগাসনের মাধ্যমে মানুষ যাতে অকাল বার্ধক্যকে রুখে দিতে পারেন এবং বার্ধক্যের গতিমুখকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন। সঠিক যোগাসন, প্রাণায়াম ও মেডিটেশনের মাধ্যমে মানুষ অনায়াসেই সুস্থ ও নীরোগ জীবন কাটাতে পারেন।"

এদিন জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার উপযোগী বেশ কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী যোগাভ্যাস ও কৌশল হাতেনাতে শেখান মিলনবাবু।


সামগ্রিকভাবে, পুরুলিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের এই যৌথ উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল যে, আধুনিক যুগেও সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকার জন্য মানুষ প্রাচীন যোগ শাস্ত্রের প্রতি কতটা আস্থা রাখছেন।