নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
বর্ষার দিনে আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকে, বৃষ্টিও হয় পর্যাপ্ত। কিন্তু ভৌগোলিক গঠন আর উপযুক্ত ব্যবস্থার অভাবে সেই বৃষ্টির জল অধিকাংশটাই ভেসে যায় নদীনালায়। ফলস্বরূপ, বর্ষা কাটলেই ঝালদা ১ নম্বর ব্লকে দরজায় কড়া নাড়ে তীব্র পানীয় ও সেচজলের সংকট। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান বের করতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। মরুভূমির বদলে জলসমৃদ্ধ গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তুলতে ঝালদায় পা রাখলেন বেঙ্গালুরুর জলসংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েতের কেরুয়ারী, কড়াডি ও বাংলাটার গ্রামে ঘুরে ঘুরে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ওই বিশেষজ্ঞ দল। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান, কৃষিজমির ঢাল, ছোট-বড় খাল এবং স্থানীয় পুকুরগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সুবর্ণরেখা নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কীভাবে বৃষ্টির জল আটকে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বাড়ানো যায়, তা নিয়ে নীল নকশা তৈরি হচ্ছে।
পরিদর্শনের পর তুলিন গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রশাসনিক কর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া ও বীরভূম জেলা থেকে আসা 'ভিবিজি রামজি' প্রকল্পের প্রতিনিধিরা। প্রকল্পের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য অশোক খৈরা জানান, "এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণই নিশ্চিত করবে না, বরং কৃষিকাজের ছবি বদলে দিয়ে গোটা অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে"। ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অভীক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "বিশেষজ্ঞদের এই সরেজমিন সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে খুব শীঘ্রই একটি বিশদ রিপোর্ট তৈরি করা হবে, যার ভিত্তিতেই পরবর্তী ও চূড়ান্ত পদক্ষেপগুলি রূপায়িত হবে"।