ক্রাইম ব্লক

বাবাকে খুন করার অপরাধে পুত্রের ১০ বছর কারাদণ্ড পুরুলিয়ায়

বাবাকে নৃশংসভাবে খুন এবং বোনকে রক্তাক্ত করার দায়ে অভিযুক্ত ছোট ছেলে সঞ্জয় মাঝিকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সন্দীপ চৌধুরি।২০২৩ সালের ১৫ জুলাই আড়শা থানার কলাবনি গ্রামের ২৬ বছর বয়সী যুবক সঞ্জয় মাঝি শাবল দিয়ে সে সজোরে আঘাত করে তার ৫৬ বছর বয়সী বাবা পরাণ মাঝি এবং বোন রমণী মাঝিকে।
বাবাকে খুন করার অপরাধে পুত্রের ১০ বছর কারাদণ্ড পুরুলিয়ায়

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পারিবারিক বিবাদের জেরে ঘটা এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে বিচার সম্পন্ন হলো পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা আদালতে। বাবাকে নৃশংসভাবে খুন এবং বোনকে রক্তাক্ত করার দায়ে অভিযুক্ত ছোট ছেলে সঞ্জয় মাঝিকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সন্দীপ চৌধুরি।


সরকারি আইনজীবী বিশ্বরূপ পট্টনায়েক জানান, "ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ১৫ জুলাইয়ের এক বিষাদময় দিন। আড়শা থানার কলাবনি গ্রামের ২৬ বছর বয়সী যুবক সঞ্জয় মাঝি পারিবারিক কলহের জেরে আচমকাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ঘরের ভেতর থাকা শাবল দিয়ে সে সজোরে আঘাত করে তার ৫৬ বছর বয়সী বাবা পরাণ মাঝি এবং বোন রমণী মাঝিকে। আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় প্রতিবেশীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় সিরকাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসকরা পরাণ মাঝিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত বোনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানান্তরিত করা হয় পুরুলিয়া গভর্মেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।

ঘটনার দিনই মৃতের বড়ো ছেলে গুরুপদ মাঝির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আড়শা থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সঞ্জয় মাঝিকে গ্রেফতার করে।
সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে শুক্রবার বিচারক সন্দীপ চৌধুরী আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করেন।  বাবাকে হত্যার দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি, বোনকে আঘাত করার দায়ে  ১ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ জারি করেছে আদালত। সব সাজা একসাথে চলবে।"