সাধারণ খবর শহর

শুরু জনগণনা, কী করবেন পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকরা? বিশদে জানালেন জেলাশাসক

পুরুলিয়ার যে সমস্ত শ্রমিক কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। অনলাইনে দেশ বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাঁরা নিজেরা এই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এমনকি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের মোবাইল থেকে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
শুরু জনগণনা, কী করবেন পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকরা? বিশদে জানালেন জেলাশাসক

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরুলিয়াতেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ‘জনগণনা ২০২৭’। প্রথম পর্যায়ে স্বগণনা। নাগরিকরা ঘরে বসেই মোবাইল কিংবা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজেদের তথ্যাদি অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধিত করতে পারবেন, যাকে বলা হচ্ছে ‘স্বগণনা’ বা ‘সেলফ-এনুমারেশন’ । 
১আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত।

এই উপলক্ষে পুরুলিয়া জেলাশাসকের কার্যালয়ে এক বিশেষ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে জনগণনা সংক্রান্ত সচেতনতা প্রচারের উদ্দেশ্যে শনিবার একটি প্রচার ট্যাবলোর শুভ সূচনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ , অতিরিক্ত জেলাশাসক, জেলা মুখ্য বনাধিকারিক, জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকসহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।  

এদিকে, জনগণনা শুরুর প্রথম দিনেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও জাতীয় সুরক্ষার দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন জেলায় এদিন পরিদর্শনে আসা রাজ্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, "দেশের এবং রাজ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে সঠিক জনগণনা অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসার আগেই আমরা বার্তা দিয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গে সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত জনগণনা করা হবে। রাজ্যে বর্তমানে কতজন বসবাস করছেন এবং কতজন অবৈধ নাগরিক রয়েছেন, তার স্বচ্ছ হিসাব থাকা দরকার।"

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কোনোরকম আপস করা হবে না। পরীক্ষায় যা উঠে আসবে, সেই অনুযায়ী যারা অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ নাগরিক, তাদের চিহ্নিত করে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হবে।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে জেলাশাসক সুধীর কোন্থম বলেন,  " ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই সেলফ-এনুমারেশন প্রক্রিয়া চালু থাকবে। পোর্টালে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি সংগ্রহের মাধ্যমে নাগরিকরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। প্রথম ধাপে জিপিএস ম্যাপের সাহায্যে নিজের ঘর-বাড়ি চিহ্নিতকরণ  করতে হবে। এটি আনুমানিক হলেও কোনো সমস্যা নেই, মূল উদ্দেশ্য হলো হাউস লিস্টিং ব্লক  অনুযায়ী ঠিকানা সুনির্দিষ্ট করা।"
জেলাশাসক আরও স্পষ্ট করেছেন যে, পুরুলিয়া জেলায় প্রায় ৫৮১০টি ‘হাউস লিস্টিং ব্লক’ রয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জনসংখ্যা ধরে হিসাব চালানো হচ্ছে। জেলাজুড়ে রিজার্ভসহ প্রায় ৬,৩০০ জন তথ্য সংগ্রহকারী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট স্বগণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, এই এনিউমারেটর ও সুপারভাইজাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি সঠিক তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করবেন।
পুরুলিয়ার যে সমস্ত শ্রমিক কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। অনলাইনে দেশ বা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাঁরা নিজেরা এই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এমনকি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও নিজেদের মোবাইল থেকে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের সূচনার দিনে সার্বিক সার্ভারে সাময়িক চাপ পড়ার কারণে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিলেও, তা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।