সাধারণ খবর শহর

পুরুলিয়া পুরসভার দেড়শ বছরের জন্মদিনে কেবলই উপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস

বিবর্ণ আবহে অতিবাহিত হলো পুরুলিয়া পুরসভার ১৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এক ছাদের তলায় আড়ম্বরপূর্ণ জাঁকজমকের বদলে গোটা দিন জুড়ে শহর দেখল এক স্পষ্ট বিভক্ত আবহাওয়া। একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নমো-নমো উদযাপন, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতায় আইনি জয় পাওয়ার পরেও নির্বাচিত বোর্ড সদস্যদের ক্ষোভ আর আক্ষেপ।
পুরুলিয়া পুরসভার দেড়শ বছরের জন্মদিনে কেবলই উপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

সময়ের নিরিখে দেড় শতক পেরোনো এক ইতিহাস। ১৮৭৬ সালে সূচনালগ্নে যে পুরসভার মাসিক অফিস ভাড়া ছিল মাত্র ৩ টাকা, আজ ২৩টি ওয়ার্ডের বিশাল পরিধি নিয়ে তা দেড় লক্ষাধিক মানুষের নাগরিক পরিষেবার ভরকেন্দ্র। কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই আড়ম্বরহীন ও বিবর্ণ আবহে অতিবাহিত হলো পুরুলিয়া পুরসভার ১৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এক ছাদের তলায় আড়ম্বরপূর্ণ জাঁকজমকের বদলে গোটা দিন জুড়ে শহর দেখল এক স্পষ্ট বিভক্ত আবহাওয়া। একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নমো-নমো উদযাপন, অন্যদিকে প্রশাসনিক জটিলতায় আইনি জয় পাওয়ার পরেও নির্বাচিত বোর্ড সদস্যদের ক্ষোভ আর আক্ষেপ।

রবিবার শহরের ইনডোর স্টেডিয়ামে পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর উদ্যোগে পালিত হয় সরকারি অনুষ্ঠান। তবে ১৫০ বছরের এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলককে সম্মান জানানোর মতো বিশেষ কোনো আড়ম্বর বা নাগরিক উন্মাদনা সেখানে ছিল না বলে উঠছে অভিযোগ। আয়োজিত হয় র‍্যালি। তাতে রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গাওয়া গান বাজতে শোনা যায়।

অন্যদিকে, ভিন্ন এক ছবি দেখা গেল জুবিলি কম্পাউন্ড চত্বরে। সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ে পুরুলিয়া পুর বোর্ড পুনর্বহাল হওয়ার পর এদিন পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি এবং কাউন্সিলর রবিশঙ্কর দাস সহ নাগরিকরা উপস্থিত হয়ে পুরসভার প্রথম বেসরকারি নির্বাচিত চেয়ারম্যান নীলকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। ১৫০ বছরের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেও তাঁদের অনুষ্ঠান থেকেও উবে গিয়েছিল উদযাপনের আসল আলো।
আইনি জয় মিললেও কেন থমকে রইল দেড় শতকের এমন একটি ঐতিহাসিক দিন?

আক্ষেপ প্রকাশ করে পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি জানান, "উচ্চ আদালতের রায়ে পুর বোর্ড ফিরে পেলেও প্রশাসনিক ছাড়পত্র এখনও মেলেনি। ফলে ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আমরা যে সমস্ত পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম, তার একটিও আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলো না।"

পুরসভা পরিকল্পনা নিয়েছিল,শহরজুড়ে ব্যাপকভাবে পলাশ গাছ লাগিয়ে পুরুলিয়া শহরকে পলাশ পর্যটনের আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।পুরসভার সূচনা থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সমস্ত কাউন্সিলরদের ছবি, নাম এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি বিশেষ স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের কাজ হবে।
পুরসভার সমস্ত পুরনো রেজোলিউশন ও নথিপত্রকে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ডিজিটাল রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বলি হয়ে এই সমস্ত পরিকল্পনাই এখন হিমঘরে। সার্কিট হাউসের একটা কামরা বা ৩ টাকার ভাড়া বাড়ি থেকে শুরু হওয়া ১৫.৭৫ বর্গ কিলোমিটারের এই পুরসভাটির দেড়শ বছরের জন্মদিনে রয়ে গেলো কেবলই উপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস।