সংস্কৃতি চাষাবাদ

পুরুলিয়া হারিয়েছে তার নিজস্ব গান, রোপণের মাঠে আক্ষেপ মহিলাদের

আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিবর্তনের ফলে খেতে ধান লাগানোর গান ও মেঠো সুর হারিয়ে যেতে বসেছে। আজ সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। মাঠেঘাটে আজকাল আর এই ধরনের গান শোনা যায় না । মহিলাদের সুমধুর কন্ঠের জায়গায় দখল করেছে স্মার্টফোনের গান। মোবাইলের শব্দে ঢাকা পড়েছে মেঠো পথের গান।
পুরুলিয়া হারিয়েছে তার নিজস্ব গান, রোপণের মাঠে আক্ষেপ মহিলাদের

 

দেবীলাল মাহাতো, আড়শা :  

একটা সময় ছিল আষাঢ় শ্রাবণ মাসে পুরুলিয়ার মাঠ ঘাট মানেই ছিল গানের মাঠ। এক হাঁটু কাদা ,হাতে ধানের চারা,আর মুখে ভেসে আসতো ধান রোপণের গান। দল বেঁধে রোপণ আর পাল্টা পাল্টি গান। ক্লান্তি যেন ধারেকাছেও ঘেঁসতো না ।
আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির পরিবর্তনের ফলে খেতে ধান লাগানোর গান ও মেঠো সুর হারিয়ে যেতে বসেছে। আজ সেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। মাঠেঘাটে আজকাল আর এই ধরনের গান শোনা যায় না । মহিলাদের সুমধুর কন্ঠের জায়গায় দখল করেছে স্মার্টফোনের গান। মোবাইলের শব্দে ঢাকা পড়েছে মেঠো পথের গান। কৃষি  যন্ত্রায়নেও মাঠে নিয়ে এসেছে ইঞ্জিনের শব্দ । এত শব্দের মধ্যে মহিলাদের ধান রোপণের গান গেছে মিলিয়ে । যন্ত্র এসেছে,সময় বেঁচেছে। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছে গ্রামবাংলার লোক সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। এখন ট্রাক্টর ও পরিযায়ী শ্রমিকের ধান রোপণ। কেউ আর গলা মেলায় না। বামুনডিহা গ্রামের ছবি লায়া, তুম্বাঝালদা গ্রামের মৌসুমী মাহাতো বলেন," আগে দলবেঁধে গান করতাম।একজন সুর ধরত।বাকিরা কোরাস দিত। জমিতে এখন এসে চুপচাপ ধান লাগিয়ে চলে যায়।"

লোক শিল্পীরা জানান," নতুন প্রজন্ম অনেকেই মাঠে গান করতে লজ্জা পায়।ফলে ভাদু,টুসুর মতো ধান রোপণের গান এখন শুধু উৎসব ও ইউটিউবের ভিডিওতে সীমাবদ্ধ। " মানুষের জীবন যাত্রার বদলই এই গান হারিয়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করেন কুড়ুকতুপা সীতারাম মাহাতো মেমোরিয়াল কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক  সুশান্ত কুমার মাহাতো। তিনি জানান, "আধুনিকতার নামে দ্রুত গতির জীবনে আমরা বহু লোক ঐতিহ্যকেই হারাতে বসেছি। ধান রোপণের গানেও সেভাবে হারাচ্ছে। আধুনিকতার জগঝম্প বাজিয়ে বিপদ ঘন্টা বাজাচ্ছি আসল লোকগানের। বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এসেছে।"

কৃষি আধুনিক হয়েছে। উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু মাঠের সেই সমবেত সুরটা ? সেটা আসতে আসতে 
হারিয়ে যাচ্ছে কাদা জলের সাথে। প্রশ্ন একটাই প্রযুক্তির ভিড়ে শিকড়ের গান আর কি ফিরে আসবে না ? আক্ষেপ শোনা যায় ষাঠোর্ধ্ব ছবি , মৌসুমীদের গলাতেও।