নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর:
পুরুলিয়ার পর্যটনে এবার জুড়ছে স্কাই ব্রিজ? অযোধ্যায় কি চালু হচ্ছে রোপ ওয়ে? সঙ্গে মিনি জু আর ট্রেকিং জুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের চমৎকার মোড়ক? রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষের কাছে গেলো এমনই একগুচ্ছ প্রস্তাব। যেখানে পুর্ব ভারতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলা, সেখানেই পুরুলিয়ার উত্থান। পর্যটন শিল্পে নয়া দিগন্ত প্রতিনিয়ত ছুঁয়ে এমনিতেই নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছে পুরুলিয়া আর এবার তার পর্যটন সম্ভাবনাকে সুদৃশ্য মোড়কে হাজির করতে বলরামপুরে আয়োজিত হলো ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম স্টেকহোল্ডারস কনফারেন্স। আর সেখানেই আসে একগুচ্ছ প্রস্তাব। কনফারেন্সে পর্যটন মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি, পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সহ একঝাঁক বিধায়ক। বলরামপুরের নেকড়ে গ্রামে সোনার বাংলা রিসর্টে আয়োজিত কনফারেন্সে পর্যটন পরিকল্পনার সুন্দর রূপরেখা পেশ করেন পুরুলিয়ার জেলা শাসক সুধীর কোন্থম।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন মন্ত্রী ড. শঙ্কর ঘোষ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে 'সেফ ট্যুরিজম' নিশ্চিত করতে রাজ্য ও জেলাভিত্তিক যুক্ত হেল্পলাইন চালুর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। দুর্গাপূজো উপলক্ষে পর্যটন বিকাশে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার জন্য চলতি সপ্তাহেই 'এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট' প্রকাশ করে বিস্তারিত জানানো হবে। পাশাপাশি, হোটেল মালিকদের সহায়তায় ও বিভিন্ন সুবিধা দিতে সরকার একটি 'ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি' তৈরির কাজ চালাচ্ছে"।
পর্যটন প্রকল্পের বিনিয়োগকারী সঞ্জিত দত্ত বলেন,"অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করতে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রী মহাশয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে বেশ কিছু লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্রুত রোপওয়ে, স্কাইওয়াক ও চিড়িয়াখানা চালু এবং সন্ধ্যার বিনোদনের জন্য দিঘা বা দার্জিলিংয়ের মতো পাহাড়ি মার্কেটের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় হস্তশিল্প ও ছৌ শিল্পের প্রসার ঘটে। পাশাপাশি পুরুলিয়া শহরের নিবারণ সায়রে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি পুনরায় চালু ও স্পটগুলোতে তোরণ নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। মন্ত্রী মহাশয় প্রতি ৬ মাস অন্তর রিভিউ মিটিংয়ের আশ্বাস দিয়েছেন এবং ডিএম সাহেবের পরিকল্পনা পুরুলিয়ার পর্যটনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী"।
পুরুলিয়া ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা মোহিত লাটা বলেন, "পুরুলিয়াতে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম পলিসি গঠন, অযোধ্যা পাহাড়কে 'ভারত দর্শন'-এর অন্তর্ভুক্ত করা এবং দ্রুত রোপওয়ে ও ট্রেকিং রুট চালুর দাবি জানান। পর্যটনস্থলে প্রপার টয়লেট, মাদার কেয়ার রুম, স্টেশন কিয়স্ক প্রতিষ্ঠা এবং বামনী ও বাঘমুণ্ডি ফলসের সংস্কারের অনুরোধ করেন। পাশাপাশি, পিপিপি মডেলে অযোধ্যা পাহাড়ে একটি স্পেস পার্ক এবং ট্যুরিজমকে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি"।
পর্যটকদের সুরক্ষা ও পরিষেবা আরও উন্নত করতে জেলায় জেলায় ট্যুরিজম হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ রাজ্য পর্যটন দফতরের। পর্যটনে প্রতারণা রোখা থেকে শুরু করে পর্যটকদের বিভিন্ন সমস্যা ও পরিষেবা সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত মেটাতে কয়েক জন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। জেলার হেল্পলাইনগুলি যুক্ত থাকবে রাজ্যের নির্দিষ্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে। ফলে রাজ্যস্তরের হেল্পলাইনে কোনও অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানানো হলে তা সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পৃথক হোমস্টে নীতি আনার প্রস্তুতিও চলছে। পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির নামে পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি না করে পরিকল্পিত এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনেই জোর দিতে চাইছে রাজ্য। বন দফতরের জমিতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও পরিকল্পনা ছাড়াই পরিকাঠামো তৈরি করে পরে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তিও আর চায় না পর্যটন দফতর। লক্ষ্য, পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটকদের উন্নত পরিষেবা দেওয়া এবং পর্যটনকে আরও সুসংগঠিত করা।