নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর:
আগামী ১৭ আগস্ট রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিক্স লিমিটেডের নতুন ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হতে চলেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এই প্রকল্পের হাত ধরেই জঙ্গলমহলের পুরুলিয়ায় শিল্পের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ইস্পাত থেকে সৌরবিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা-সামগ্রী থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে জেলাজুড়ে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসছে পাঁচটি শিল্প সংস্থা। একসময়ের খরাপ্রবণ ও পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে পরিচিত পুরুলিয়া এবার ইস্পাত ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে প্রস্তুত।
রঘুনাথপুরে ৩৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্ট গড়ে তুলছে অমিত মেটালিক্স লিমিটেড। পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম (WBIDC) থেকে কেনা ১৪৮ একর জমিতে এই কারখানা তৈরি হচ্ছে, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১,৬০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জমি হস্তান্তরিত হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে পেলেট, পাওয়ার, ফেরো অ্যালয় ও স্পঞ্জ আয়রন ইউনিট তৈরি করা হবে।
সম্প্রতি রঘুনাথপুর-১ ব্লকের দুর্মুট মৌজায় প্রস্তাবিত এই অত্যাধুনিক আয়রন অ্যান্ড স্টিল কারখানাকে ঘিরে একটি পরিবেশগত জনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রঘুনাথপুর মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ওই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) যোগেশ অশোক রাও পাটিল, মহকুমাশাসক মিঠুন বিশ্বাস, রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিক, নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি ও স্থানীয় জমিদাতারা।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ অটোমেটিক ব্যবস্থা এবং পণ্য পরিবহণে রেলপথ ব্যবহার করা হবে। জনশুনানিতে উপস্থিত জমিদাতাদের একাংশ জানান, "শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল উন্নয়ন এবং স্থানীয়দের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের লিখিত আশ্বাসের ভিত্তিতে তাঁরা এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে শুনানিতে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ তুলে অফিসের বাইরে জমিদাতাদের অন্য একটি অংশ ক্ষোভপ্রকাশ করায় এলাকা জুড়ে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়"।
ইস্পাত শিল্পের পাশাপাশি পুরুলিয়ার সামগ্রিক শিল্প মানচিত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে, মানবাজার মহকুমায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগে একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।বলরামপুরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরির কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা।জয়পুর বিধানসভা এলাকায় গুজরাটের একটি সংস্থা আলুর চিপস তৈরির কারখানা গড়ে তুলছে। ডিভিসির রঘুনাথপুর তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সাঁওতালডিহি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে জেলার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৪,৬২০ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর, বোকারো ও ধানবাদের মতো খনিজসমৃদ্ধ শিল্পাঞ্চলের ভৌগোলিক সান্নিধ্য, সহজে কাঁচামাল ও পরিবহণের সুবিধা এবং জেলায় বিপুল পরিমাণ পতিত জমির উপস্থিতি পুরুলিয়াকে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করেছে। রঘুনাথপুরের মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে রুখামাটির এই জেলায় নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।