নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
বর্ষা আসুক বা শীত, জীবন বাজি রেখে পারাপারই যেন নিত্যসঙ্গী। একপাশে পশ্চিমবঙ্গ। অন্যপাশে ঝাড়খণ্ড। মাঝখানে বয়ে চলেছে সুবর্ণরেখা ও সাপই নদীর সংগমস্থল। অথচ দুই রাজ্যের সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলেই বছরের পর বছর ধরে আটকে রয়েছে একটি স্থায়ী সেতুর কাজ। এবার সেই অভাব মেটাতে এবং দ্রুত সাপই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবিতে সম্মিলিতভাবে সরব হলেন পুরুলিয়ার ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের তুলিন ও কেরুয়ারি এলাকার বাসিন্দারা।
ঝালদা ১ নম্বর ব্লকের তুলিন-ব্রজপুর রাস্তার কেরুয়ারি সংলগ্ন সুবর্ণরেখা ও সাপই নদীর মিলনস্থলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে তুলিন হয়ে সোজা ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি, আর অন্যদিকে ব্রজপুর হয়ে রাঁচির রামগড় কিংবা ঐতিহ্যবাহী রাজরাপ্পায় যোগাযোগের সংক্ষিপ্ততম পথ এটি। কিন্তু নদী পার হওয়ার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার গ্রামবাসী।
গ্রামবাসী মহাবীর মাহাতো আক্ষেপের সুরে জানান, "ভোটের আগে নেতারা এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচন পার হলেই আমাদের এই দুর্দশার কথা সবাই ভুলে যান। সামান্য একটু রাস্তা পেরোতে না পেরে আমাদের ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়।"
একইভাবে স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ কুমার মাহাতো, প্রথম মাহাত ও সুনীল গঁরাই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "কোনো রোগী অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষাকালে নদী বিপদসীমা পার করলে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে"।
অন্যদকে, এই সমস্যার বিষয়ে বাঘমুণ্ডি বিধানসভার বিধায়ক রহিদাস মাহাতোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিগত সরকারের গাফিলতিকেই কাঠগড়ায় তোলেন। বিধায়ক আশ্বাস দিয়ে বলেন, "এই পথটি দুই রাজ্যের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি এবং রাজ্য সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।"
ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু জীবন বদলায় না। সীমান্তবর্তী দুই ভূখণ্ডের মানুষের দাবি এখন একটাই, রাজনৈতিক তরজা বন্ধ হোক l নদীর উপর গড়ে উঠুক কংক্রিটের সেতু। যাতে বন্ধ হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পারাপার।