সুইটি চন্দ্র , কেন্দা:
পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের কেন্দা থানায় খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের একটি বিশাল গোডাউনের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই গোডাউনটি চালুর মাধ্যমে এলাকার রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় যেমন গতি আসবে, তেমনই তৈরি হয়েছে প্রায় ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। তবে এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মঞ্চ থেকে পূর্বতন রাজ্য সরকারের দুর্নীতিকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতিকে হাতিয়ার করে খাদ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
গোডাউনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বিগত দিনের রেশন দুর্নীতি নিয়ে সুর চড়ান। প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সিবিআই হেফাজতে থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ নীতির পথ ধরেই নতুন রূপ পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মূল মন্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, “মোদীজি যেমন বলেছেন ‘না খাউঙ্গা না খানে দুঙ্গা’, আমি যতদিন এই খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবো, পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য দপ্তরের কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রকে বরদাস্ত করা হবে না।” কৃষকদের অন্নদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ওড়িশা ও ছত্তিশগঢ়ের মতো রাজ্যগুলির পথ অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও ধানের সঠিক সহায়ক মূল্য সুনিশ্চিত করা এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে বলীয়ান করাই রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে এক 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত' বলে বর্ণনা করেন পূর্ত ও অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি। পুরুলিয়ার সামগ্রিক উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “এয়ারপোর্ট, সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল ও রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ানো পর্যন্ত একের পর এক মাইলস্টোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকের এই গোডাউন পুরুলিয়াবাসীর জন্য রাজ্য সরকারের এক বড় উপহার।” পাশাপাশি, খাদ্য দপ্তরের স্বচ্ছতা ফেরাতে মন্ত্রীর সরাসরি সারপ্রাইজ ভিজিট ও গুণমান খতিয়ে দেখার উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু, পুরুলিয়া জেলার বিশিষ্ট সমাজসেবী শংকর মাহাতো,এডিএম (ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোলার), মানবাজারের এসডিও, স্থানীয় বিডিও, সহ খাদ্য দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদার সংস্থার প্রতিনিধিরা। মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু জানান, "এই বিশাল ধারণক্ষমতার গোডাউন চালুর ফলে স্থানীয় এলাকাতেই সরাসরি রেশন পৌঁছাবে, যা প্রান্তিক মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সঠিক সময়ে খাদ্য শস্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বহুগুণ দ্রুত করবে"।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের এই নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার বার্তাই উঠে এল কেন্দার এই সভা থেকে।