স্বাস্থ্য শহর

পুরুলিয়ার যোগাসন মঞ্চে শতবর্ষের 'যুবক'! তাক লাগালেন শীর্ষাসনে

এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জয়পুর থানার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা, '১০০ বছরের যুবক' বলরাম পরামানিক। তাঁর চমৎকার যোগাভ্যাস দেখে উপস্থিত সকলেরই তাক লেগে যায়।
পুরুলিয়ার যোগাসন মঞ্চে শতবর্ষের 'যুবক'! তাক লাগালেন শীর্ষাসনে

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

দেশ ও রাজ্যের সাথে মিলিয়ে পুরুলিয়া জেলাতেও মহাসমারোহে পালিত হলো দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। রবিবার পুরুলিয়া শহরের ঐতিহাসিক এমএসএ ময়দানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও বন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়া, সাধারণ নাগরিক এবং প্রবীণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এদিনের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম  জানান, "জেলাজুড়ে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে। পুরুলিয়ার এমএসএ স্টেডিয়ামে প্রায় ৬০০ মানুষকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে যোগব্যায়াম করছি। এখানে পুলিশ সুপার সহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত আছেন। চলতি বছরের মূল ভাবনা বা থিম হলো 'যোগা ফর হেলদি এজিং' । সেই লক্ষ্যেই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের আমরা এই অনুষ্ঠানে শামিল করেছি।"

জেলাশাসক আরও জানান, যোগব্যায়ামের এই ইতিবাচক বার্তাটি যাতে জেলার প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। আজ জেলার সমস্ত স্কুল, কলেজ, সরকারি দপ্তর, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভা এলাকাতেও একযোগে যোগাভ্যাসের আয়োজন করা হয়েছে।


এদিনের যোগ দিবসের মঞ্চ থেকে শরীরচর্চার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার এক অভিনব বার্তা দেয় জেলা বন দপ্তর। পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও  অঞ্জন গুহ যোগব্যায়ামের উপকারিতার সাথে প্রকৃতির ভারসাম্যের বিষয়টি জুড়ে দিয়ে বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এটাই বার্তা দিতে চাই যে, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে শুধু নিজেকে সুস্থ রাখাই শেষ কথা নয়, আমাদের পরিবেশ এবং ধরিত্রী মা-কেও সুস্থ রাখতে হবে।"

তিনি আরও জানান, এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে এবং 'এক পেড় মা কে নাম' (মায়ের নামে একটি গাছ) কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সমস্ত অংশগ্রহণকারীকে একটি করে ফলের চারা গাছ উপহার দেওয়া হয়েছে। চারাগাছগুলি শুধু রোপণ করাই নয়, সেগুলিকে যত্ন সহকারে বড় করে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো যোগ ও প্রাণায়ামকে ভারতের সনাতন ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "ঋষি- মুনিদের হাত ধরে যে যোগের সূচনা হয়েছিল, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে ২০১৫ সালে তা বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। পুরুলিয়ার মাটিতে স্থানীয় মন্ত্রী  নদীয়ার চাঁদ বাউরী এবং জেলা প্রশাসনের সাথে এই দিনটি উদযাপন করতে পেরে আমি আনন্দিত "।
এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জয়পুর থানার শ্রীরামপুরের বাসিন্দা, '১০০ বছরের যুবক' বলরাম পরামানিক। তাঁর চমৎকার যোগাভ্যাস দেখে উপস্থিত সকলেরই তাক লেগে যায়। সাংসদ বলেন, "উনি ১০০ বছরের বৃদ্ধ নন, উনি আসলে ১০০ বছরের যুবক! শীর্ষাসন থেকে শুরু করে যোগের কঠিন সব মুদ্রা যেভাবে উনি প্রদর্শন করলেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ওঁর সামনে আজকের ২৫ বছরের ছেলেও হার মেনে যাবে। এই শতবর্ষী যুবককে আমি স্যালুট জানাই।"