রাজনীতি ব্লক

আবাসের নামে টাকা! পুলিশের সামনেই তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মা*র, আদ্রায় উত্তেজনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, আক্রান্ত ব্যক্তি আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান তুফান রায়। তিনি রঘুনাথপুরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতিও। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন তিনি প্রকাশ্যে ছিলেন না বলেই স্থানীয়দের দাবি।
আবাসের নামে টাকা! পুলিশের সামনেই তৃণমূল নেতাকে বেধড়ক মা*র, আদ্রায় উত্তেজনা

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, আদ্রা:

দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে। বুধবার হঠাৎ গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ধরে চড়, ঘুষি, লাথি মারতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। টানাহেঁচড়ায় ছিঁড়ে যায় জামা-প্যান্টও। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ১ নম্বর ব্লকের আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, আক্রান্ত ব্যক্তি আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান তুফান রায়। তিনি রঘুনাথপুরের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতিও। সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন তিনি প্রকাশ্যে ছিলেন না বলেই স্থানীয়দের দাবি। বুধবার গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরই ক্ষুব্ধ জনতার মুখোমুখি হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। একদল উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে বেধড়ক মারধর করে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আদ্রা থানার পুলিশ। কিন্তু পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কিছু সময়ের জন্য এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরে পুলিশ কৌশলে তুফান রায়কে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আদ্রা থানায় নিয়ে যায়।  স্থানীয় সূত্রের দাবি, আড়রা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান তথা শ্রমিক সংগঠনের নেতা তুফান রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি, আবাস নির্মাণে টাকা নেওয়া, বিভিন্ন অনিয়ম এবং এলাকার মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগ ছিল। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। প্রায় তিন মাস পরে বুধবার গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পা রাখতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়দের একাংশ। এমন জনরোষের মুখে পড়তে হবে, তা তিনি বা তাঁর ঘনিষ্ঠরা কেউই আন্দাজ করতে পারেননি।

দুপুর থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে আবাস নির্মাণে টাকা নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।