নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
শহরের বুকে বছরের পর বছর ধরে একাধিক হোটেল ও লজ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের একাধিক প্রান্তে সাম্প্রতিক আগুনে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা থেকেও শিক্ষা নেয়নি তারা। আর সেই জতুগৃহের মধ্যে প্রতিদিন বহু মানুষ ও পর্যটক রাত কাটাচ্ছেন। যেকোনো মুহূর্তে বড়সড় বিপদ ঘটে যেতে পারে।
অভিযোগ উঠেছে, শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকা বেশ কিছু পুরনো ও নতুন হোটেলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, সিলিন্ডার বা এমনকি পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও নেই। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে কী হবে, কেউ জানেন না।
হোটেল মালিক নিতাই দে বলেন,
"ব্যবসা অনেক বছর ধরেই চলছে। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার যে নিয়মকানুন বা পরিকাঠামোর কথা বলা হচ্ছে, তা সব সময় সঙ্গে সঙ্গে তৈরি করা সম্ভব হয় না। আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি এবং খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।"
হোটেল ম্যানেজার বাসুদেব মুখার্জী জানান, "আমাদের এখানে আপৎকালীন অবস্থায় আগুন নেভানোর জন্য যে বিপুল পরিমাণ জলের প্রয়োজন, তার স্থায়ী পরিকাঠামো নেই। এই ঘাটতি আমরাও স্বীকার করছি। ওপরমহলে বিষয়টি জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।"
হোটেল ম্যানেজার পরাণচন্দ্র মাহাতো বলেন, " আমাদের হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমরা সাধারণ সুরক্ষাবিধি মেনে চলার চেষ্টা করি, তবে আধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে তোলা যায়নি। আগুন লাগলে যাতে দ্রুত সামাল দেওয়া যায়, সে বিষয়ে কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে।"
তারাপীঠ থেকে কলকাতায় একের পর এক প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের এই উদাসীনতা নিয়ে সরব সাধারণ মানুষ। নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গকারী এই হোটেলগুলির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ প্রশাসন বা দমকল বিভাগ অদূর ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে কি না, এখন সেটাই দেখার।