লাইফস্টাইল শহর

সরকারি ভাতা ভরসা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন পুরুলিয়ার নারীরা, প্রশংসা পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা বিচারকের

পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা বিচারক সন্দীপ চৌধুরী বলেন, "কেবল সরকারি ভাতা বা সাহায্যের উপর নির্ভর না করে নারীরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন, ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করছেন এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। "
সরকারি ভাতা ভরসা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন পুরুলিয়ার নারীরা, প্রশংসা পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা বিচারকের

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

আসন্ন দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের তহবিল গঠনের লক্ষ্যে পুরুলিয়া শহরে দেশবন্ধু রোডে ভ্যালু ইউ স্টোরের  তৃতীয় তলায়    সূচনা হলো 'আমরা সম্পূর্ণা' ক্লাবের‌ দু‌দিনব্যাপী বিশেষ প্রদর্শন ও মেলা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পুরুলিয়া জেলার জেলা ও দায়রা বিচারক সন্দীপ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সম্পাদক  অরিজিৎ মন্ডল এবং 'বন্ধু পুরুলিয়া'র ডিরেক্টর অন্নপূর্ণা মুখার্জী এবং 'আমরা সম্পূর্ণা' ক্লাবের সম্পাদক সুদেবী দাঁ এবং বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।


পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা বিচারক সন্দীপ চৌধুরী বলেন, "কেবল সরকারি ভাতা বা সাহায্যের উপর নির্ভর না করে নারীরা এখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন, ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করছেন এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। বর্তমান যুগে নারীদের মানসিকতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পড়াশোনা ও কেরিয়ার গড়ে আত্মনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত অনেকে বিয়ের সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন না। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সংবিধান প্রদত্ত সংরক্ষণের সুবাদে নারীরা যেভাবে প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলছেন, তার প্রশংসা করে সকলকে এই মেলার পাশে দাঁড়ানো দরকার"।

আমরা সম্পূর্ণা ক্লাবের সম্পাদক‌ সুদেবী দাঁ বলেন, "এই মেলার মূল উদ্দেশ্য কেবল ব্যবসা নয়, বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মেলার অর্জিত অর্থ দিয়ে নিখরচায় চোখের অপারেশন এবং নেশামুক্তি কর্মশালার মতো একাধিক সমাজসেবামূলক কাজ পরিচালনা করা হয়"। ,
তিনি আরও বলেন, "মেলায় সাধারণ মানুষের কেনাকাটার পাশাপাশি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে 'হ্যাপি আওয়ার', যেখানে নাচ, গান ও আবৃত্তির প্রতিযোগীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া প্রবেশপত্রের কুপনের উপর লটারির মাধ্যমেও উপহারের সুযোগ থাকছে।

ঝাড়গ্রামের ব্যবসায়ী সুজাতা দে জানান,
"তাঁতের শাড়ি, কাঁথা স্টিচ, তসর থেকে শুরু করে বিশেষ পুজোর আকর্ষণ 'জরদৌসি' কাজ করা ডিজাইনার শাড়ির বিস্তৃত কালেকশন রয়েছে তাঁর স্টলে। ৫০০ টাকা থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে সব স্তরের ক্রেতাদের জন্য এই কেনাকাটার সুযোগ রাখা হয়েছে"।

হাতে তৈরি পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, রাখির পাশাপাশি গোপালের পোশাক ও হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট নিয়ে সাজানো দু'দিনব্যাপী এই মেলা স্থানীয় স্বনির্ভর নারীদের অর্থনৈতিকভাবে মজবুত করার পাশাপাশি উৎসবের কেনাকাটায় শহরবাসীর জন্য এক বিশেষ ঠিকানা হয়ে উঠেছে।