নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
পারমাণবিক শক্তি কি মানবজাতির অগ্রগতির চাবিকাঠি, নাকি বিনাশের পূর্বাভাস? নাগাসাকি দিবসের বিশেষ স্মরণে এই বিতর্কিত ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্নটিকেই কাঠগড়ায় তুলল পুরুলিয়ার উদীয়মান তরুণ প্রজন্ম। জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক উদ্দীপক প্যানেল আলোচনায় বিজ্ঞানের অমিত সম্ভাবনা ও তার ভয়াবহ ঝুঁকির তুলনামূলক বিশ্লেষণে মুখর হয়ে উঠল জেলার শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সেন্ট জেভিয়ার্স, সেন্ট পিটার্স, দ্য অ্যাসেম্বলি অফ গড চার্চ, শান্তময়ী গার্লস’ এবং গভর্নমেন্ট গার্লস’ হাইস্কুল এই পাঁচ স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকে মোট ১০ জন প্রতিশ্রুতিবান প্রতিনিধি এই আলোচনাচক্রে অংশ নেয়। পরমাণু শক্তির বৈজ্ঞানিক দিক, পরিবেশের ওপর এর প্রতিক্রিয়া এবং বিশ্ব উন্নয়নে এর অবদান নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ মতামত তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিপূর্ণ ভাবনার এই কঠিন প্রতিযোগিতায় বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন সিধো-কানহো-বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশিস ঢক এবং পুরুলিয়া জেলা বিজ্ঞান আধিকারিক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
তবে শুধুই বিজ্ঞান চর্চায় সীমাবদ্ধ থাকেনি এদিনের আয়োজন। বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয় জাতীয় আবেগের অন্য এক মাত্রা। রবিবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করা হলো 'হর ঘর তিরঙ্গা' অভিযান ২০২৬ । সচিত্র প্রামাণ্য চিত্র ও অ্যান্থেম প্রদর্শনের পাশাপাশি 'বন্দে মাতরম্'-এর সার্ধশতবর্ষ উদযাপনে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে জাতীয় গান পরিবেশন করে।
একদিকে পরমাণু অস্ত্রের অভিশাপ ভুলে শক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ, অন্যদিকে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল উদযাপন সব মিলিয়ে রবিবারের জেলা বিজ্ঞান কেন্দ্র সাক্ষী থাকল তরুণ মনের গভীর চিন্তাশীলতা ও জাতীয় চেতনার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনের।