সাধারণ খবর রাজনীতি শহর

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুরুলিয়া শহরের গোশালায়! দমকলের দেরিতে ক্ষুব্ধ বিধায়ক

তীব্র দাবদাহের মাঝেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মঙ্গলবার দুপুরে পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের ধারে অবস্থিত পুরুলিয়া গো-রক্ষিণী সভার গোশালায় একটি খড়ের গোডাউনে আচমকাই আগুন লেগে যায়।অনুমান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পুরুলিয়া শহরের গোশালায়! দমকলের দেরিতে ক্ষুব্ধ বিধায়ক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

তীব্র দাবদাহের মাঝেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! মঙ্গলবার দুপুরে পুরুলিয়া-বরাকর রাজ্য সড়কের ধারে অবস্থিত পুরুলিয়া গো-রক্ষিণী সভার গোশালায় একটি খড়ের গোডাউনে আচমকাই আগুন লেগে যায়।

মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে গো-খাদ্যের জন্য মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ খড়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। প্রায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে দমকল কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গোশালা কমিটির সদস্য সুজিত সুলতানিয়া জানান, "ঈশ্বরের কৃপায় কোনো অবলা জীব বা গবাদি পশুর ক্ষতি হয়নি, এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। তবে বর্ষাকালের জন্য মজুত করে রাখা সমস্ত খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চামড়ার শেডের কাঠের বিম, কনস্ট্রাকশন এবং একটি মূল্যবান মেশিন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের অনুমান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।"

আগুনের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, যেহেতু গোডাউনের ওই অংশে কোনো ইলেকট্রিক লাইন ছিল না, তাই শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে এলাকার তীব্র গরম ও লু-এর কারণেই কোনোভাবে এই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সশরীরে হাজির হন মহকুমা শাসক , পুরুলিয়া সদর থানার আইসি সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজেপি স্টেট কাউন্সিল সদস্য গৌতম রায় উদ্ধারকার্যের প্রশংসা করার পাশাপাশি  জানান, "খবর পাওয়া মাত্রই আমরা এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত এখানে পৌঁছাই। প্রথম অগ্রাধিকার ছিল গো-মাতা ও জীবজন্তুগুলোকে নিরাপদে সরানো, যা সফলভাবে করা গেছে। তবে এটি আমাদের অত্যন্ত আস্থার ও ধর্মীয় আবেগ জড়িত একটি স্থান, তাই এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আজ কাজের দিন  হওয়ায় ট্রাফিকের কারণে দমকলের পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছে। এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

শহরের প্রাণকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দমকলের পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন  বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। দমকলের বিলম্বে পৌঁছানোর অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিধায়ক বলেন, "শহরের বুকেই যদি দমকলের গাড়ি আসতে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় নেয় যেখানে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট লাগার কথা তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আজ যদি শহরের বদলে কোনো প্রত্যন্ত গ্রামে এই আগুন লাগত, তবে তো সব পুড়ে ছাই হয়ে যেত! এই তীব্র গরমে গ্রামীণ এলাকায় এমন বিপর্যয় ঘটলে সাধারণ মানুষের সেই ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে? কেন উপযুক্ত সংখ্যক চালক নেই?" দমকল বিভাগকে চিঠি দেবেন বলে জানিয়েছেন পুরুলিয়ার বিধায়ক।