সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
এক ফসলি জমির যাবতীয় সমস্যাকে পাশে রেখে এবার জঙ্গলমহলের কৃষকদের মুখে হাসি ডবল ইঞ্জিনে ডবল ধামাকা! রাজ্য সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃষক-সম্মান নিধি’ প্রকল্পের হাত ধরে পুরুলিয়ার কৃষকদের ঘরে এবার আর্থিক স্বস্তির হাওয়া। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে জেলার কৃষি মানচিত্র বদলের রূপরেখা তুলে ধরে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই নতুন প্রকল্পের আওতায় জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার ২ লক্ষ ৮১ হাজার কৃষক বাড়তি আর্থিক সহায়তা পেতে চলেছেন। কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি’ প্রকল্পের বার্ষিক ৬ হাজার টাকার বাইরে এবার রাজ্য সরকারের তরফে ‘টপ-আপ’ হিসেবে মিলবে আরও ৩ হাজার টাকা (তিন কিস্তিতে ১ হাজার টাকা করে)। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হওয়ায় খুব শীঘ্রই কৃষকদের অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে দুটি কিস্তির টাকা ঢুকে যাবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্তম বলেন, "এই প্রকল্পের আওতায় থাকা কৃষকরা ১ হাজার টাকা করে দুটি কিস্তির টাকা হাতে পাবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অধীনে কৃষকদের হাতে বীজও তুলে দেওয়া হয়েছে।"
তবে শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, খরাপ্রবণ পুরুলিয়ার কৃষি অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি বদল আনতে বড়সড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা’ প্রকল্পের জন্য সারা দেশ থেকে বাছাই করা ১০০টি কৃষি জেলার মধ্যে ঠাঁই পেয়েছে পুরুলিয়া। মূলত সারা বছরে একবার মাত্র ফসল ফলানো এবং খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ার ফলেই এই বিশেষ সুযোগ এসেছে জঙ্গলমহলের এই জেলাটিতে।
কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে পুরুলিয়া জেলা কৃষি দপ্তর। জেলার সেচ-সেবিত এলাকার পরিমাণ ৫ শতাংশ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুরুলিয়ায় সেচযুক্ত জমির পরিমাণ ৮৭ হাজার ৮১৬ হেক্টর, যা মোট কৃষিজমির প্রায় ২১ শতাংশ। এই পরিমাণ আরও বাড়াতে কোমর বেঁধে নেমেছে কৃষি দপ্তর।
এদিনের অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) অভিজিৎ মণ্ডল এবং কৃষি আধিকারিক (তথ্য) মুক্তেশ্বর সর্দার সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।